পঞ্চগড়ে নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্ব: প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত হোটেল শ্রমিক

ছুরিকাঘাতে আহত হোটেল শ্রমিক
ছুরিকাঘাতে আহত হোটেল শ্রমিক | ছবি : সংগৃহীত
0

পঞ্চগড়ে জেলা হোটেল ও রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আব্দুল মালেক (৪০) নামে এক হোটেল শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল (রোববার, ৩০ আগস্ট) জেলা শহরের সরকারি অডিটোরিয়ামের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আহত আব্দুল মালেকের বাড়ি পঞ্চগড় জেলা শহরের রামেরডাঙ্গা এলাকায়।

হোটেল শ্রমিক নেতারা জানান, সম্প্রতি জেলা হোটেল ও রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভাপতি সম্পাদকসহ ১৩ পদের বিপরীতে ১৩ জন শ্রমিক মনোনয়ন কেনেন। কোন পদের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ২৯ আগস্ট ফলাফল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর মধ্যেই হোটেল শ্রমিকদের আরেকটি পক্ষ আব্দুল খালেক ও রফিকুলের নেতৃত্বে দিনাজপুর আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ওই দুই শ্রমিক নেতাকে ৩০ আগস্ট সংগঠনটির কার্যালয়ে ডাকেন।

এ সময় তারা ৪০ থেকে ৫০ জন লোক নিয়ে কার্যালয়ে উপস্থিত হন। তারা পুনরায় ভোট দেয়ার দাবি জানান। দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি তাদের শান্ত করে উভয়পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।

তার কিছুক্ষণ পর নির্বাচনে কার্যকরী পদে অংশগ্রহণকারী আব্দুল মালেক বাড়ি ফিরছিলেন। জেলা শহরের সরকারি অডিটোরিয়ামের সামনে পৌঁছালে রফিকুলের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন তার গতিরোধ করে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় তার বুকের বাম পাশে গভীর ক্ষত হয়।

আরও পড়ুন:

রক্তাক্ত অবস্থায় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আব্দুল মালেক বলেন, ‘তারা দীর্ঘ সময় ধরে আমাকে মারার চেষ্টা করছিল। আমি মায়ের দোয়া হোটেলের পাশে লুকিয়ে ছিলাম। প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমি ৯৯৯ ফোন করি। পুলিশ এসে সমাধান করে দেয়। পরে বাড়ি ফেরার পথে অডিটোরিয়ামের সামনে সড়কে রফিকুল, মিজান, মনিরসহ ৭ থেকে ৮ আমার ওপর হামলা করে। আমাকে তারা ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তারপরে আমি আর বলতে পারি না।’

জেলা হোটেল ও রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও এবারের সভাপতি প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘যারা আমাদের বিরোধিতা করছিল তারা নির্বাচনের মনোনয়নপত্রই কিনেনি। আজকে আমাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করার কথা ছিলো। কিন্তু রফিকুল, গণি, মনির, মিজানসহ কয়েকজন আজ ফলাফল ঘোষণা বাধা দেয় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

এর ১০ মিনিটের মধ্যেই মালেককে ছুরি দিয়ে আঘাত করে তারা। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, ‘ওই ব্যক্তির বুকের একেবারে বাম পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আঘাতটি অনেক গভীরে চলে গেছে। আমরা তার রক্ত বন্ধ করতে পেরেছি। তাকে চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীকে ধরার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এফএস