জানা যায়, উদ্বোধনের সময় নাম ফলকে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমের নাম দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সংরক্ষিত নারী সদস্য সদস্য বিলকিস ইসলাম। এতে বিষয়টা নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিদর্শন কক্ষে বসেই ঘণ্টাব্যাপী চলে এই বাকযুদ্ধ।
এসময় বিলকিস ইসলাম বলেন, ‘এখানে আমাকে কেন প্রধান অতিথি করা হয়নি? আর ফলকে কেন শুধু একজনের নাম লেখা হয়েছে। এই পরিদর্শন কক্ষ কি শুধু আব্দুল মুনতাকিমের?’
এর প্রেক্ষিতে এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ‘এটা ৩৫০ জন জাতীয় সংসদ সদস্যের। এখানে সবাই আসবেন, কাজ করবেন। কিন্তু এলাকাটা যেহেতু আমার তাই ফলকে আমার নামই থাকবে।’
এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম আরও বলেন, ‘নারী এমপিদের এলাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। তাই তাদের জন্য পরিদর্শন কক্ষ নির্দিষ্টও নয়। এ কারণে এভাবে দলবল নিয়ে এসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অবতারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনি যদি অধিকার দেখাতে চান তাহলে পরিপত্র অনুযায়ী হতে হবে। এমন কোনো ডকুমেন্টস আছে কি আপনার?’
আরও পড়ুন:
এতে চটে যান মহিলা এমপি এবং হট্টগোল শুরু হয়। এসময় বিলকিস ইসলাম বিষয়টা দেখে নেয়ার চ্যালেঞ্জ করেন এবং বলেন, ‘আমার দল সহজ সরল হলেও আমি নই। কোনোক্ষেত্রেই ছাড় দেবো না। এটা সংসদেও উঠাবো এবং এমপিগিরি দেখাবো। আমি আমার অধিকার আদায় করে নেবো। সারা দেশে কোথায় কীভাবে কি করা হয়েছে তা আমি জানতে চাই না। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শন কক্ষে আমার স্থান দিতে হবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন— সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম, এম এ পারভেজ লিটন, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাজহারুল ইসলাম।
এছাড়াও উভয়দলের অন্যান্য নেতাকর্মী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সূধীজন ও সংবাদকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময়ের বাকবিতণ্ডা চলাকালে পরিদর্শন কক্ষে কৌতূহলী সাধারণ মানুষেরও ভীড় জমে। তবে জাকজমকপূর্ণ আয়োজন হোঁচোট খায় এবং শেষে মিষ্টিমুখ করে রুক্ষ মুহূর্তের সমাপ্তি ঘটে। যাওয়ার সময় নারী এমপি বিলকিস ইসলাম কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সাকিরের ওপর চড়াও হয়।
যা চরম দৃষ্টিকটু ও বালখেল্যপনা বলে প্রতীয়মান হয়। সাধারণ মানুষের মাঝে এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে বলেন, এত সম্মানিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কখনোই কাম্য নয়। এমন করে তারা নিজেদেরকেই অপমানিত করেছেন। সেই সঙ্গে জনগণের মান সম্মানও নষ্ট করেছেন। ভবিষ্যতে এরকম হাস্যকর কাজ করা থেকে বিরত থাকতে উভয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।





