ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষ: ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি

আহত মাদ্রাসাছাত্র
আহত মাদ্রাসাছাত্র | ছবি: এখন টিভি
0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে গানবাজনা বন্ধের অনুরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

আজ (বুধবার, ১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশের দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট) রাতে জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় পুলিশ লাইন্সে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ লাঠিচার্জ করলে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যাওয়ার পরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল।

এসময় পুলিশ লাইন্সের পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উচ্চস্বরে গানবাজনা নিয়ে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, বুধবার মাদ্রাসায় পরীক্ষা থাকায় উচ্চ শব্দে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল।

আরও পড়ুন:

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন প্রথমে পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। তখন কিছুটা শব্দ কমানো হলেও পরে আবার উচ্চস্বরে গান বাজানো শুরু হয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শতাধিক মাদ্রাসাছাত্র পুলিশ লাইন্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মারধরে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ। বৈঠকে জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পুলিশ লাইন্সে গানবাজনার অনুষ্ঠান না করা, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এফএস