চাঁদপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ২১ কোটি, ধাপে ধাপে পরিশোধ

চাঁদপুর পৌরসভা
চাঁদপুর পৌরসভা | ছবি: এখন টিভি
0

চাঁদপুর পৌরসভা বছরের পর বছর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিল পরিশোধ না করায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিকট বকেয়া পড়েছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। দীর্ঘ দিনের বকেয়া নিয়ে বিপাকে বিদ্যুৎ বিভাগ। পৌর কর্তৃপক্ষকে একের পর এক চিঠি দিয়েও লাভ হয়নি। তবে পৌর প্রশাসক বলছেন, চলতি বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি অতীতে জনপ্রতিনিধিদের করা বকেয়া ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হচ্ছে।

পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা প্রদানে সব বিল আদায় করলেও নিজেই বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখেছে চাঁদপুর পৌরসভা। ২০০৬ সাল থেকে বকেয়া রাখতে শুরু করে বিদ্যুৎ বিল। ২০২৫ সালে এসে যা দাঁড়ায় প্রায় ২১ কোটি টাকায়। যেখানে প্রিপেইড মিটারে বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সাধারণ গ্রাহকরা। সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের এত বড় অঙ্কের বকেয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নাগরিকরা।

পৌরবাসীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখানে আমরা টাকা না ভরলে আমাগো বিদ্যুৎ অফ। উনাগোটা বছরকার বছর পর্যন্ত না ভইরাও চলতাছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমাদের যে এরকম প্রিপেইড মিটার দিছে, ওদেরকেও যদি এরকম প্রিপেইড মিটার দিয়ে দেয়, তা সমস্যার সমাধান হয়।’

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘তারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, কিন্তু তারা বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করছে না। এটা অবশ্যই একটা বাজে ব্যাপার।’

চাঁদপুর সুশাসনের জন্য নাগরিকের সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটা বকেয়া থাকা কখনোই সমীচীন না। কারণ নাগরিক হিসেবে পৌর ট্যাক্স, হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে যাবতীয় পাওনা কিন্তু নাগরিকরা কিন্তু পরিশোধ করছে যথাসময়ে। যদি সেটা পরিশোধ হয়, তাহলে পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকবে কেন?’

আরও পড়ুন:

বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বে থাকাকালীন এই বকেয়া জমে। ২০২৫ সালে পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের পর থেকে চলতি বিলের পাশাপাশি প্রতি মাসে বকেয়া প্রায় ১০ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে বলে জানান পৌর প্রশাসক। বর্তমানে আরও ১৭ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে পৌরসভার যে আয়- তাতে বিল বকেয়া থাকার কথা ছিল না বলেও জানান তিনি।

চাঁদপুর পৌর প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের চলতি কোনো বিল বকেয়া নেই। এছাড়াও আমরা এই ২১ কোটি থেকে বর্তমানে কিন্তু আমাদের বকেয়া সারচার্জ ছাড়া প্রায় ১৭ কোটি টাকা। তার মানে আমরা ২২ কোটি টাকা থেকে বর্তমানে ১৭ কোটি টাকাতে এসেছি। আমরা কিন্তু চলতি বিলও দিয়ে যাচ্ছি এবং প্রতি মাসে মাসে যে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলটা আছে সেটাও আমরা পরিশোধ করে যাচ্ছি। রাজস্ব যদি আমাদের ওইভাবে আদায় হয়, তাহলে হয়তো এটা আমরা চেষ্টা করবো যত দ্রুত সম্ভব এই বকেয়াটা পরিশোধ করার।’

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, তাদের আওতায় চাঁদপুরে গ্রাহক আছে প্রায় ৭৫ হাজার। এদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করে। চাঁদপুর পৌরসভার টাকা ছাড়া কোথাও বকেয়া নেই। বকেয়া আদায়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

চাঁদপুর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘পৌরসভার এই বকেয়াটা হচ্ছে চারটা পানির পাম্পের বকেয়া। যেহেতু পানি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পানির লাইন যদি আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি তাহলে পৌরবাসী একটা পানির দুর্ভোগ পোহাবে। সে বিবেচনা করে আমরা উনাদেরকে চিঠি দেই এবং ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে টাকাটা আদায়ের চেষ্টা করি।’

সাধারণ গ্রাহকদের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানেরও সময়মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা আর্থিক শৃঙ্খলার অংশ। পৌরসভার দীর্ঘদিনের বকেয়া কত দ্রুত পরিশোধ হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে বকেয়া না হয়- সেটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা।

এসএস