আজ (শুক্রবার, ৩ জুলাই) টেকনাফ ২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সদস্যরা বিশেষ টহল পরিচালনা করেন।
একই সময়ে নাফ নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও নৌ টহল জোরদার করা হয়। আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, টেকনাফ থেকে শাহপরীরদ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বিশেষ করে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, সীমান্ত অতিক্রম কিংবা চোরাচালানের ঘটনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলা চালায় দেশটির সামরিক বাহিনী। এসব হামলার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত ভেসে আসে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকেও আবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তজুড়ে স্থল ও নৌ টহল জোরদারের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানানপ্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টেকনাফ সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বাংলাদেশ অংশে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা আতঙ্কের কারণ নেই।
বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পুরো সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের গুজবে কান না দিয়ে শুধু প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।





