বুধবার ইটানগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বালো রাজা বলেন, ‘ডিআইজি পদে থেকে কেন এই ধরনের মন্তব্য করা হল? নিজেদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী। আপনারা নিশ্চয়ই ধুরন্ধর সিনেমাটি দেখেছেন; এটি দেখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন ভারতের গোয়েন্দা সক্ষমতা কতটা বেড়েছে।’ আইটিবিপির মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুর অরুণাচল সীমান্তে সেনাদের সঙ্গে কথা বলার সময় সেখানে এখনো সংঘাত চলছে বলে মন্তব্য করার পর এই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
এর আগে রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপির সেন্ট্রাল ট্রেনিং কলেজে আয়োজিত এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে বাহিনীটির মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুর জানান, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে বেশ কয়েকটি স্থানে চীনা বাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনাদের মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্তে সংঘাতের বিষয়ে কোনো ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত জুলাইয়ে তাকসিং এলাকায় চীনা সেনারা ভারতীয় বাহিনীকে নিয়মিত টহলকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়ার পর থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। এমনকি গত সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সময়েও সীমান্তে এই সামরিক টানাপোড়েন বজায় ছিল। কাপুর জানান, পার্বত্য যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত আইটিবিপির নবগঠিত শৌর্য কমান্ডোরা সংঘাতের সময় অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছে। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আধাসামরিক বাহিনী বর্তমানে চীনের সঙ্গে ভারতের ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এলএসি পাহারা দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।
এদিকে আইটিবিপি প্রধানের এই বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সীমান্তে চীনা অনুপ্রবেশ এবং ভারতীয় টহল দল ও স্থানীয়দের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের বিষয়ে সরকার পুরো দেশকে অন্ধকারে রাখছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যার দাবি জানান তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সমীচীন। তবে চীনা সেনারা প্রতিষ্ঠিত টহলরীতি না মানলে সীমান্ত এলাকায় সময়ে সময়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভুল বোঝাবুঝি ও সংঘাত এড়াতে উভয় পক্ষ নিয়মিত কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।
—ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে অবলম্বনে





