বুকেলে জানান, একটি বেসরকারি সংস্থা হাইতির একটি বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছে দিয়ে দাবি করেছিল এগুলো অপহৃত এল সালভাদরীয় বিমানবাহিনীর চার টেকনিশিয়ানের। কিন্তু প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সেগুলোর মধ্যে একটি শিশুর মরদেহ এবং আরেকটি মরদেহে ভিন্ন একটি দেশের সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম রয়েছে। এছাড়া একটি মরদেহ তাদের নিখোঁজ টেকনিশিয়ানদের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেক বেশি দীর্ঘকায়।
প্রেসিডেন্ট আরও জানান, হস্তান্তরিত মরদেহের কাছে পাওয়া পরিচয়পত্র ও পোশাকও অন্য দেশের। এ বিষয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে জাতিসংঘের গ্যাং দমন ফোর্সের (জিএসএফ) সদস্য এবং আফ্রিকার দেশ চাদের এক সেনার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখা যায়।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, হাইতির রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সের উপকণ্ঠে পাওয়া আগুনে পোড়া মরদেহগুলো নিখোঁজ চার টেকনিশিয়ানের বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করতে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রয়োজন হবে বলেও জানানো হয়। তবে বুকেলে প্রকাশিত চাদের ওই পরিচয়পত্রটি আহত অন্য এক সেনার হারিয়ে যাওয়া কার্ড ছিল বলে ভিন্ন একটি সূত্রের বরাতে উল্লেখ করে পত্রিকাটি।
হাইতিতে অপরাধী চক্রের হাত থেকে চার সেনাকে জীবিত উদ্ধার করতে গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৪৫০ জনের একটি বিশেষ সামরিক দল পাঠায় এল সালভাদর। জাতিসংঘের সহায়তা পাওয়া বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর অংশ হিসেবে ওই চারজন মূলত সেখানে যুদ্ধ করতে নয়, বরং জরুরি চিকিৎসাসেবা ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ছিলেন। হাইতির ক্রোয়া-দে-বুকে এলাকায় একটি সাঁজোয়া যানে করে ক্যাম্পে ফেরার পথে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত অপরাধী চক্রের চোরাগোপ্তা হামলার শিকার হন তারা।
২০২১ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিহত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক শূন্যতায় হাইতিজুড়ে অপরাধী চক্রের সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের হিসাবমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে অপরাধীদের হামলায় ও যৌথ অভিযানে ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। অপহৃত টেকনিশিয়ানদের উদ্ধারে সামরিক হেলিকপ্টার পাঠানো হলেও সেখানে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের কারণে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছে এল সালভাদরের সামরিক বাহিনী।





