রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ৪৬ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিসিটিভিতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্প শুরু হলে রেস্তোরাঁ থেকে কর্মীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসছেন। একই সময়ে সুপারমার্কেটের তাক থেকে বিভিন্ন পণ্য নিচে পড়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল একটি পার্বত্য এলাকায়। এটি নাগচু শহর থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে এবং আঞ্চলিক রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।
সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকায় তৃতীয় স্তরের ভূমিকম্পজনিত জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপে। সিনহুয়া জানিয়েছে, ওই টাউনশিপের উপপ্রধান লাওয়াং দাগপো বলেছেন, ভূমিকম্পের কম্পন টাউনশিপ কার্যালয়েও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। এতে কার্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে ৩০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যকে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগ ৩৪৭ জন সদস্যকে সেখানে মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
সিসিটিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কয়েকটি ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীদের একজনকে এক ব্যক্তিকে বহন করে নিয়ে যেতেও দেখা যায়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে টর্চের আলো দিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে উদ্ধারকর্মীদের। অন্যদিকে, দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে দেখা যায় সেনাসদস্যদের।
চীনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এর আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের গ্রামীণ এলাকা তিংরি কাউন্টিতে ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জন নিহত হন।
এর আগে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ভূমিকম্পে অন্তত ১২৭ জন নিহত হন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।
২০১৪ সালে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে ভূমিকম্পে ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের গানসু ভূমিকম্পের আগ পর্যন্ত ২০১৪ সালের ওই ভূমিকম্পকেই ২০০৮ সালের পর চীনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
এছাড়া ২০০৮ সালে সিচুয়ান প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ছিলো স্কুলশিক্ষার্থী।—বাসস





