কয়েকদিন আগেও যে জমিতে দুলত ধানের শীষ, এখন সেখানে সবুজ সবজির সমারোহ। কোথাও বাঁধাকপি, কোথাও করলা, শিম, টমেটো, বেগুন কিংবা লাউ। শীত আসার আগেই বাজার ধরতে কুষ্টিয়ার মাঠে মাঠে এখন আগাম সবজির ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। প্রতিকূল আবহাওয়া আর পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও বেশি দামের আশায় এ চাষাবাদে ঝুঁকছেন তারা।
মিরপুর উপজেলার কৃষক সেন্টু হোসেন পাঁচ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন শীতকালীন বাঁধাকপি। খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। আশানুযায়ী ফলন হলে শীতের আগেই সবজি বিক্রি করে মোটা অংকের লাভের আশা তার।
বাঁধাকপি চাষি সেন্টু হোসেন বলেন, ‘এই ফসলের চাহিদা বেশি। এই সবজি চাষের জন্য আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।’
শুধু সেন্টু হোসেন নয়, বেশি লাভের আশায় জেলার অনেক কৃষকই এখন আগাম সবজি চাষে আগ্রহী। তবে ফসল ঘরে তোলার আগপর্যন্ত তাদের দুশ্চিন্তা আবহাওয়ার বৈরিতা আর পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ে।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সারসহ কৃষি আনুষাঙ্গিক অন্যান্য পণ্যর দাম নাগালের মধ্যে থাকলে তাদের উপকার হবে।
এবছর কুষ্টিয়ায় সাত হাজার ৪৩৮ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় আট হেক্টর বেশি। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির রোগবালাই ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে দেয়া হচ্ছে নিয়মিত পরামর্শ।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম বলেন, ‘রোগগুলা আর জাব পোকা, আমরা এই বিষয় সবসময় কৃষককে পরামর্শ দিচ্ছি। কোন ধরণের বালাইনাশক ইউজ করতে হবে। উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় এই কৃষকের পাশে আছে।’
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান বলেন, ‘আমরা কৃষকদের বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। তাদেরকে উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে এই আনসিজনাল যে সকল ভেজিটেবল রয়েছে সেগুলো প্রোডাকশন টেকনোলজি তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছি।’
কৃষকদের দাবি, চাষাবাদের প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম কমালে তাদের লাভের পাশাপাশি গ্রাহকরা তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনতে পারবেন।




