পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার আনন্দভ্রমণে কক্সবাজারে যান মো. কবির তালুকদারের পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন তার ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যরাও। তারা কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। তবে কবির তালুকদারের জামাতা নুরে আলম শুক্রবার ঢাকায় ফিরে যান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের সময় কয়েকজন জানালা ভেঙে বের হতে পারলেও অন্যরা আটকা পড়েন। এ ঘটনায় কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতনি ফাইজান আহম্মেদ নিহত হন।
নিহত অপর চারজন হলেন ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাভিলা ও নাফিসতা মীম। তারা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্য। তাদের বাড়ি ঢাকার ফতুল্লা এলাকায় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহত কৌশিক জেরিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।
অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার আর কিছুই রইল না। আমার ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। পাশাপাশি আমার ভায়রার পরিবারের চারজনও মারা গেছেন।’
পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য শনিবার বিকেলে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গেছেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে আমতলীর একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। পরিবার সহায়তা চাইলে আর্থিকভাবে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।’





