১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক দেহ ত্যাগ করেন বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ। তার স্মরণেই কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়ির পাশে মরা কালিগঙ্গা নদীর তীরে শুরু হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই বাউল মেলা।
উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাঁইজির বারামখানায় ছুটে এসেছেন হাজারো ভক্ত-অনুরাগী। আখড়া বাড়ির চারপাশে চলছে সাধু-বাউলদের ভাব বিনিময় ও দেহতত্ত্বের গান।
ভক্তদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মানুষের সেবা মানবধর্ম, মানবতার ধর্ম। লালন সবসময় এটাই শিখাইছে। সে যা বইলা গেছে ওইটা যদি আমরা পালন করতে পারি, তাইলে মানব জনম ধন্য।’
অন্য একজন বলেন, ‘মানুষে মানুষে বিভাজন থেকে বের করে নিয়ে আসতে উনি আপ্রাণ চেষ্টা করছে। মানুষে মানুষে যেন বৈষম্য না থাকে।’
আরও পড়ুন:
অনুরাগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা এখানে আসতে আমাদের খুব ভালো লাগে। আমরা সাঁইজির প্রেমের টানে আমরা এখানে চলে আসছি।’
এবারও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই মেলা ও সাধুসঙ্গ নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে ৮৭২ জন এখানে নিয়োগ থাকবে, নিয়োজিত থাকবে। তার মাঝে আমাদের এসবি থাকবে, ডিবি থাকবে। আমাদের একটা বোট থাকবে ওই পুকুরে। পাশাপাশি হচ্ছে যে আমরা যাতে অন্য কোনো ধরনের ঘটনা না ঘটে।’
জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, ‘এই তিন দিন আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই, যাতে আমরা সুন্দরমতো একটি জাতীয় প্রোগ্রাম অনুষ্ঠান করতে পারি। প্রতি বছর যে তাদের প্রোগ্রামগুলো হয়, পুণ্যসেবা থেকে শুরু করে অধিবাস সেবা, সেগুলো সবগুলোই থাকবে এবং রিচুয়ালের কোনো ধরনের হলো ব্যাঘাত হবে না।’
সন্ধ্যায় উন্মুক্ত মঞ্চে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।





