গ্রামীণ জনপদে শীত আসলেই শুরু হয় খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের তোড়জোড়। ঝিনাইদহ অঞ্চলেও এখন সেই প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। শীতের আগমনী বার্তায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।
প্রথমে ধারালো দা দিয়ে কেটে বের করা হয় খেজুর গাছের সোনালী অংশ। এরপর চলে ১২ থেকে ১৪ দিনের অপেক্ষা। পরবর্তীতে আবারও চাষ দিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন রেখে দেয়া হয়। সবশেষে বাঁশের নল বসিয়ে শুরু হয় রস সংগ্রহের মূল প্রক্রিয়া। তবে এখন আর আগের মতো নেই সেই খেজুর গাছ কিংবা গাছি। একদিকে গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম কৃষি কাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে অনেক খেজুর গাছই অব্যবহৃত পড়ে আছে।
গাছিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আগে গাছ অনেকগুলোই ছিল। সবারই প্রায় গাছ থাকতো আমাদের গ্রামে। প্রতি ঘরে ঘরে, প্রতি ব্যক্তিতেই গাছ তুলতো, গাছ কাটতো। এখন নানাবিধ ফসল হচ্ছে মাঠে। ফসলের জমিতে ফলের আবাদ হওয়ার কারণে সেই জমিতে গাছ রাখছে না।’
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আগে যেরকম গাছ কাটতো, এখন সবাই কাটা হলো শৌখিন হয়ে গেছে। এখন দুই একজন কাটে আর প্রায় লোকেই গাছ তুলে দিয়েছে।’
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, খেজুর গাছ সংরক্ষণ ও নতুন গাছি তৈরিতে তারা নিয়মিত চাষিদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধ করছেন। এতে কিছুটা হলেও ফিরে আসছে আগ্রহ।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘গাছি এবং কৃষক ভাইদেরকে নিরাপদ গুড় এবং রস উৎপাদনে পরামর্শ প্রদান করে আসছি এবং নতুন গাছি তৈরিতে আমরা তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছি।’
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলায় বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৩টি খেজুর গাছ রয়েছে। শীতের মৌসুম জুড়ে এসব গাছ থেকেই সংগ্রহ করা হবে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খেজুর রস। যা থেকে তৈরি গুড় ও পাটালির স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হবে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলায়।




