চুক্তিতে কী আছে?
ট্রাম্প গত শুক্রবার জানিয়েছেন, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ মেট্রিক টন (২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল) ডিজেল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই আরও ১০ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদার তুলনায় এটি কতটুকু?
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রায় ২৯ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল ডিজেল ব্যবহৃত হয়। সে হিসাবে ট্রাম্প ঘোষিত প্রথম দফার ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল এক দিনের চাহিদারও কম। পরবর্তী দুই দফা মিলিয়ে মোট পরিমাণও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাতের চার দিনের চাহিদার নিচে।
বাস্তবায়নে কী কী বাধা?
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলেও অনেক রাশিয়ান ট্যাংকারের ওপর এখনো নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, ফলে কোন জাহাজে ডিজেল রপ্তানি হবে তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কতটুকু তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রাশিয়া কতটুকু রপ্তানি করতে পারবে?
২০২৪ সালে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা শুরুর আগে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করতে সক্ষম ছিল। শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গত জুলাই থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করে মস্কো। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নেই এমন দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, তবে মধ্য এশিয়ার 'বন্ধুপ্রতীম' দেশগুলোতে রপ্তানি অব্যাহত ছিল।
শিল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যদি রাশিয়ার শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখে, তাহলে ট্রাম্পের প্রথম দফার ৩ লাখ টনের চাহিদা মেটানো রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব। রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের একটি বড় শোধনাগার পুনরায় চালু হলে এই মাসেই ৩ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন সম্ভব বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাশিয়ার অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী?
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতে, ইউক্রেনের শোধনাগার হামলায় রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে, যা রয়টার্সের হিসাবে প্রায় ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারের সমান। ৩ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি থেকে রাশিয়া আনুমানিক ৪০ কোটি ডলার আয় করবে, যার সামান্য অংশই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে। কারণ রাশিয়া মূলত তেল উৎপাদনের ওপর কর আরোপ করে, রপ্তানির ওপর নয়। রাশিয়ায় প্রায় ৩০টি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে, যেখানে ইউক্রেনে একটিও চালু নেই।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী?
মস্কো গত শনিবার জানিয়েছে, জুলাই থেকে চালু ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই চুক্তি মস্কোর হামলা আরও বাড়াবে এবং আরও প্রাণহানি ঘটাবে। মার্কিন কংগ্রেসেও সমালোচনা হয়েছে। রিপাবলিকান দলীয় প্রতিনিধি ডন বেকন বলেছেন, কংগ্রেস সম্প্রতি যেসব নতুন নিষেধাজ্ঞা পাস করেছে, সেগুলো আরোপের সময় এসেছে, তোলার নয়।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, তার দেশ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করবে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডেফুল ট্রাম্পের জেলেনস্কিকে সরানোর আহ্বানের পর বার্লিনের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের নেতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং রাশিয়ার ওপর শান্তি আলোচনায় ফিরতে চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ক্রেমলিন সোমবার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এটি শুধু তেল শোধনাগারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
চীনের ভূমিকা কী?
গোল্ডেন উইক ছুটির পর চীন আবার পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছে। তবে অক্টোবরে ডিজেল, পেট্রোল ও জেট ফুয়েলের অনুমোদিত রপ্তানি প্রায় ৩৭ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম এবং সেপ্টেম্বরের ৪০ লাখ টনেরও নিচে।
ডিজেলের দাম এত চড়া কেন?
রাশিয়ার রপ্তানি সঙ্কটের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে। এই দুই কারণ মিলিয়ে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে কী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?
জি-সেভেন দেশগুলো সম্প্রতি তাদের কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। গত মার্চে আইইএর ৩২টি সদস্য দেশের সমন্বয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি মজুত অবমুক্ত করা হয় ৪০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য। সম্প্রতি আইইএ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অবশিষ্ট অ-অবমুক্ত পরিমাণও বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।




 founder Abhijeet Dipke-1-320x167.webp)
