ভারতে ভোটার তালিকা বিতর্ক নিয়ে উত্তাল রাজপথ; নজর বিশ্ব গণমাধ্যমের

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে দিল্লি পুলিশের বসানো ব্যারিকেডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে দিল্লি পুলিশের বসানো ব্যারিকেডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারতে ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেস কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা দেশব্যাপী বিক্ষোভ এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটির দীর্ঘদিনের নির্বাচনি ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ইকোনমিস্ট, বিবিসি ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমগুলো। দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ভারতের প্রায় ১০০ কোটি মানুষকে ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য নথিপত্র দেখাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে দরিদ্র নাগরিকদের জীবিকার তাগিদ ছেড়ে বারবার নির্বাচন কর্মকর্তাদের দপ্তরে ধরনা দিতে হচ্ছে। পত্রিকাটি আরও জানায়, প্রায় ৯ কোটি ভোটারের নাম ‘অনুপস্থিত বা স্থানান্তরিত’ দেখিয়ে বাদ দেয়ার ঘটনা পূর্ববর্তী ও আসন্ন নির্বাচনগুলোর নিরপেক্ষতাকে বড় ধরনের সন্দেহের মুখে ফেলেছে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট ভারতের সাবেক সিইসি এস ওয়াই কোরেশিকে উদ্ধৃত করে জানায়, নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘদিনের সুনাম এখন ধসে পড়ার মুখে। সাময়িকীটি উল্লেখ করে, ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা এড়িয়ে বিজেপি এমন একটি আইন প্রণয়ন করেছে, যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসানো যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মীরা গণহারে ‘ফরম ৭’ জমা দিয়ে বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি সিইসি জ্ঞানেস কুমারের পেশাগত জীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেছে, তিন দশকের বেশি সময় ধরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রকল্পগুলো সামলানো এই আমলা এখন নিজের প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত রক্ষার এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

অন্যদিকে লন্ডনভিত্তিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে আগামী বছর উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার জন্য বড় এক পরীক্ষা হতে চলেছে।

এএম