দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার দিনভর চলে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়। কয়েক স্তরের ব্যারিকেড বসিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় রাজধানীর প্রবেশ পথগুলো। এছাড়া, প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে ছিল পুলিশের তল্লাশিচৌকি।
বিক্ষোভ দমাতে আটক করা হয় কয়েক হাজার আন্দোলনকারীকে। পুলিশি বাধা পেরিয়ে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অনেক বিক্ষোভকারী। এ সময় সড়ক থেকে আটক করে টেনে হিচড়ে তোলা হয় পুলিশের গাড়িতে। আন্দোলনের আগেই আটক হন সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ জনপ্রিয় ইউটিউবার দ্রুব রাঠীও।
এই পরিস্থিতিতেও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলনের নতুন নেতৃত্ব পাওয়া সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে রোববার দিল্লির যন্তর মন্তরে ফের মিছিল নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
দিল্লি ছাড়াও অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা জানান, দমনপীড়ন করেও সরকার তাদের রুখতে পারবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে তারা।
একের পর এক আন্দোলনে অনেকটা চাপের মুখে মোদি সরকার। এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করে আসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত জুলাইয়ে তরুণদের আন্দোলনের মুখে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিল। ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে পদত্যাগে বাধ্য হন মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
কয়েক মাস না যেতে আবারও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি সরকারকে এতো দুর্বল অবস্থায় আগে কখনো দেখা যায়নি। যদিও জনচাপের কাছেও নিজেকে অপরাজেয় প্রমাণে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি।
সম্প্রতি রাজ্য নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অন্যায়ভাবে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠে। এর জেরে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বড় আন্দোলনের ডাক দেয় তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি। দিল্লির যন্তর মন্তরের এই কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছিল গণতন্ত্র বাঁচাও। এই আন্দোলনে একাত্মতা জানায় বিরোধী দলগুলো। পুলিশের দমনপীড়নে সমাবেশ করতে না পারলেও ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে মোদি সরকারের।





