ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ; তোপের মুখে প্রশাসন

প্যারিসে দেশজুড়ে বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
প্যারিসে দেশজুড়ে বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ | ছবি: রয়টার্স
0

ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও বিতর্কিত অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সহিংস বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশের অভিযানে বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এখন কঠোর নজরদারির মুখে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে পুলিশের বলপ্রয়োগে অন্তত ২৮ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে অন্তত ২৪টি ঘটনা তদন্ত করছে দেশটির পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদারকি সংস্থা আইজিপিএন। সম্প্রতি প্যারিসের নিকটবর্তী এলাকায় বিক্ষোভের কাছে অবস্থানকালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মুখে খুব কাছ থেকে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে তার চোয়াল ও একাধিক দাঁত ভেঙে যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছে পরিবারটি। এছাড়া রাবার বুলেটের আঘাতে দুই শিক্ষার্থীর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লেন্স শহরে স্টান গ্রেনেডের বিস্ফোরণে এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, সংঘাতময় পরিস্থিতিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এবং ৭০০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এক শিক্ষার্থীর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার তদন্ত চলার সময় স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকোর্নু এই বিক্ষোভকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস বলে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাজ্য, ইতালি বা জার্মানির মতো ইউরোপের অধিকাংশ দেশে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট বা স্টান গ্রেনেডের মতো তথাকথিত ‘কম প্রাণঘাতী’ অস্ত্রের ব্যবহার না থাকলেও ফ্রান্সে এর নিয়মিত প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। বামপন্থি দলগুলো এসব অস্ত্র স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধের দাবি জানালেও পুলিশ ইউনিয়নগুলোর দাবি, সহিংসতা ঠেকাতে এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন। ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে এই ছাত্রবিক্ষোভ প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।

এএম