সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থার একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে ইয়েমেনের হুথিরা। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর দমকলকর্মীদের তা নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারে জানান, তাদের যোদ্ধারা দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কিং খালিদ বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে নাজরান বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি হুথিদের এই দাবি নাকচ করে জানান, রিয়াদ ও খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
হামলার পর শনিবার পর্যন্ত রিয়াদে ফ্লাইট বাতিল করেছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং লুফথানসা গ্রুপও সৌদি রাজধানীতে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এছাড়া সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের সব নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বুধবার আভা ও কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলায় তিন ব্যক্তি নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হন।
এদিকে ইয়েমেনের ভেতরে তায়েজ প্রদেশ ও লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সৌদি জোটের সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। একই সঙ্গে আল-জাউফ প্রদেশেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের কারণে চরম মানবিক সংকট তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)। সংস্থাটির প্রতিনিধি ক্রিস্টিন সিপোলা নিখোঁজদের সন্ধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।





