রামপুরার বাসিন্দা আব্দুল হাই। পেশায় একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। গত ১০ বছর ধরে পূর্ব রামপুরা এলাকায় ২ রুমের একটি বাসায় পরিবারসহ থাকতেন। শুরুতে ৯ হাজার টাকা ভাড়ায় থাকলেও সেটা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার টাকায়। এতে আয়ের সাথে ব্যয়ের হিসাব মিলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আগের থেকেও ছোট বাসা ভাড়া নিলেন ১২ হাজার টাকায়।
আব্দুল হাই বলেন, ‘আট মাস আগে ভাড়া বাড়িয়েছে ১,০০০ টাকা, আবার আট মাস পরে বাড়িয়েছে ৩,০০০ টাকা। তা আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব না। এই কারণে আমি নতুন বাসা নিয়া বাধ্য হয়েছি। আবার যেই বাসায় আসছি, এ বাসায় যে ভাড়া বাড়াবে না-এটারও কোনো গ্যারান্টি নেই।’
এমন অবস্থায় রাজধানীতে থাকা অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্তের। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি চাকরিজীবীদের পেস্কেলের সুযোগে বাড়ি ভাড়াও বাড়াচ্ছে কোন কোন বাড়ির মালিক। কেবল ভাড়া নিয়ে লড়াই নয়, বাসা বদলের আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে গ্যাস সংকট।
বাসা ভাড়ার সিস্টেমটাকে একটা সমন্বিত আইন বা নিয়মের মধ্যে আনা দরকার। ভাড়া কীভাবে বাড়বে, কতটুক পার্সেন্টেজে বাড়বে—সেই অনুযায়ী থাকা উচিত বলে জানান ভাড়াটিয়ারা।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ৫ বছরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসা ভাড়া বেড়েছে ৫ হাজার থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ২৫ বছরে ঢাকায় বাসাভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। ক্যাবের আরেক জরিপে দেখা যায়— ঢাকার ৫৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের প্রায় অর্ধেক ব্যয় করেন কেবল বাসা-ভাড়ার পেছনে, আর ১২ শতাংশ ভাড়াটিয়ার ক্ষেত্রে এই হার ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি।
বাসা বদলাচ্ছে মানুষ, বদলাচ্ছে ঠিকানা। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নতুন বাসায় গিয়ে কি মিলবে স্বস্তি, নাকি আবারও শুরু হবে নতুন ঠিকানার খোঁজ?
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক বললেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো বাসাভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। এবিষয়ে কোন সরকারই আন্তরিকতা দেখায়নি বলে অভিযোগ তার।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘ভাড়াটিয়াদের যে আইনগুলো আছে, এগুলো দেখা গেছে ঘুরেফিরে বাড়িওয়ালাদের কাছে। সরকারের একটা নীতি থাকা দরকার কোন এলাকায় কী পরিমাণ ভাড়া হওয়া উচিত। সরকারের কাছে কিন্তু এরকম কোনো নীতি নাই। সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপও নিচ্ছে না। শুধুমাত্র যেখানে যাবেন, সেখানেই দেখা যাচ্ছে যে ভাড়াটিয়ারাই শুধুমাত্র সাফারিং করতেছে।’
নিরাপত্তাজনিত কারণেও রাজধানীর বাসিন্দারা বাসাবদল করে থাকেন। এই যেমন চাঁদাবাজি, ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাসা বদল চলতেই থাকে।
ভাড়াটিয়ারা জানান, মোহাম্মদপুরে ইদানীং বাসা ভাড়া অনেক বেড়ে যাচ্ছে এখানকার পরিস্থিতি অনুযায়ী।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, বাসাভাড়ার নজরদারি আর এলাকাভেদে নিরাপত্তাজোরদারে প্রশাসনের তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।





