পুরাণে আছে, মহিষাসুর বধ ও অশুভ নাশের জন্য দেবী দুর্গার দশ হাতে দশটি ভিন্ন ভিন্ন অস্ত্র তুলে দিয়েছিল দেব-দেবীরা। এ কারণে দেবী দুর্গার আরেক নাম দশভুজা।
শারদীয় দুর্গোৎসব কিংবা বাসন্তী পূজা দেবী দুর্গার আরাধনা বলতেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দশ হাতের দুর্গাকেই চিনে থাকে। তবে ৩৫০ বছর ধরে হাওড়ার শিবপুরে অস্ত্রবিহীন, দুই হাতের দুর্গা প্রতিমার পূজা করে আসছে একটি বনেদি পরিবার।
এই পরিবারের পুজার প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো, এখানে দেবী শান্ত। এ কারণে দেবীর বাম হাতে অভয়া মুদ্রা আর ডান হাতে ফল ও একটি প্রস্ফুটিত পদ্মফুল। প্রতিমার বাহন সিংহ থাকলেও, নেই কোনো অসুরের অস্তিত্ব।
আরও পড়ুন:
এই ব্যতিক্রমী পুজোর আচার-অনুষ্ঠানেও আছে বহু প্রাচীন রীতি। রথের দিন থেকে প্রাচীন কাঠামো পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় পাল বাড়ির প্রতিমা তৈরির কাজ।
নবমীর ঠিক ১৫ দিন আগে, কৃষ্ণনবমী তিথিতে বোধনের মাধ্যমে পূজার সূচনা হয় এবং প্রতিদিন চলে চণ্ডীপাঠ। এখানে দেবীকে অন্নভোগের পরিবর্তে নিবেদন করা হয় লুচি, মিষ্টি ও ফল দিয়ে। সপ্তমীর ভোরে নবপত্রিকা স্নানের যে রীতি প্রচলিত, সেটিও এই বাড়ির প্রাঙ্গণেই সম্পন্ন হয়; নদীর ঘাটে গিয়ে নয়।
পাশাপাশি শাক্তমতে পূজা হওয়ায় আছে পশু বলির রীতি। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পাঁঠাবলি এবং নবমীতে ফল বলির মাধ্যমে সেই প্রথা পালন করা হয়।
দশমীতেও রয়েছে ব্যতিক্রমী ছাপ। সিঁদুর খেলায় বরণ করা হয় না দেবীকে। কেবল সিঁদুর ছুঁইয়ে, বাড়ির মেয়েরা মেতে ওঠে সিঁদুর খেলায়।




