ফ্রান্সে ৭ শতাধিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অবরোধ তৈরি করে আগুনে একটি স্টপ সাইন ছুড়ে দিচ্ছে
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অবরোধ তৈরি করে আগুনে একটি স্টপ সাইন ছুড়ে দিচ্ছে | ছবি: সংগৃহীত
0

শিক্ষকসংকট দূর, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত ভিড় কমানো এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের দাবিতে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের শুরু করা বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার অভিযোগে গত শুক্রবার দেশজুড়ে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৭৩৫টিতে বিক্ষোভের সরাসরি প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এবং রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আগুন জ্বালিয়েছেন। সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন স্কুলের অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘পরিস্থিতি ক্রমে দাঙ্গা ও নগর সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এটি বন্ধ করতে আমরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে অভিযোগ করেছেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে বাইরের লোকজন ঢুকে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন বলেন, আন্দোলনটি এখন আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। সহিংসতার ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিক্ষোভ চলাকালে পূর্বাঞ্চলীয় বেলফোর্ট শহরে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে পেট্রোল বোমা, কুঠার ও শক্তিশালী আতশবাজি উদ্ধার করা হয়েছে। নানতে শহরের নেলসন ম্যান্ডেলা হাইস্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ২০ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এমন অসন্তোষ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের জন্য নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষা তহবিলে টান পড়ার আশঙ্কায় মূলত তরুণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। দেশটির একাধিক প্রধান শিক্ষক ও শ্রমিক ইউনিয়ন শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

এএম