বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল, প্রাণহানি বেড়ে ৩০

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ছবি
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হিমালয় কন্যা নেপাল। আগস্টে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের ক্ষত সামলিয়ে উঠার আগেই নতুন করে বন্যার কবলে পড়েছে দেশটি। এক সপ্তাহের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। দুর্ভোগে বন্যা কবলিত প্রায় দুই হাজার পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় আড়াইশ ঘরবাড়ি। পাহাড়ে আটকা পড়া হেলিকপ্টার পর্যটকদের দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে নেপালের পর্যটন খাত। এদিকে, ইউরোপে রেকর্ড তাপমাত্রায় চলতি বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহের ৫ শতাংশ বরফ গলে গেছে।

গত আগস্টে এমন প্রলয়ংকারী পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কবলে পড়েছিলো নেপাল। ভয়াবহ এ দুর্যোগে প্রাণ হারায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এখনো অনেকের সন্ধান মেলেনি। ধ্বংস হয়েছে বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক। কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে শত শত ঘরবাড়ি ও স্থাপনা।

সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও ভারি বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়লো হিমালয় কন্যা। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত দেশটি। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন। ধসে গেছে প্রায় আড়াইশ ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। বন্যাকবলিত প্রায় ২ হাজার বাসিন্দা। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক, অবকাঠামো ও সেতু বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে।

নেপালের ৭৭টির মধ্যে ৪৯টি জেলাতেই পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধান নদী ও উপনদীগুলোর পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় অর্ধেকের বেশি জেলা রয়েছে বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে। এছাড়া, কয়েকটি জেলায় বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে নেপালের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পর্যটন খাত। অন্নপূর্ণার সার্কিটে ভ্রমণে যাওয়া শত শত পর্বতারোহী ও পর্যটক আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সফর সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। মানাং ও মুস্তাং জেলা থেকে বহু পর্যটক ও স্থানীয়দের উদ্ধার করা হয় হেলিকপ্টারে করে।

গত সপ্তাহে নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় মানাং জেলায় ৭ হাজার মিটার উঁচু হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধসে চাপা পড়ে কয়েকজন পর্যটক। দুইজন গাইডের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনো নিখোঁজ ১৪ জন। পর্বতারোহীদের তাঁবুর ওপর আছড়ে পড়ে বিশাল তুষারখণ্ড।

এদিকে, ইউরোপে রেকর্ড তাপমাত্রায় গলতে শুরু করেছে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ। সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো পাঁচ শতাংশেরও বেশি গলে যাবে।

হিমবাহ সংকুচিত এবং অতিরিক্ত বরফ গলার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ হারিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। ইউরোপের বরফ ঢাকা এলাকার অস্তিত্ব নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

জেআর