আম্মার ছিলেন শিবিরের ‘সাথী’; পদ বাণিজ্যসহ আরও অভিযোগে হন বহিষ্কার

সালাউদ্দিন আম্মার
সালাউদ্দিন আম্মার | ছবি: এখন টিভি
0

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (তৎকালীন) রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যসহ সংগঠন-পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।

শিবিরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে গত ৩১ জুলাই রাবি শাখা শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের দেয়া এক চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে সম্প্রতি বিষয়টি সামনে আসে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তার ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ অবস্থায় তার অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেখাতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়। শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখার কথা বলা হয়।

২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবিরের তৎকালীন সভাপতি ও রাকসুর বর্তমান সহসভাপতি (ভিপি) মুস্তাকুর রহমান জাহিদের সই করা এক চিঠিতেও আম্মারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

সালাউদ্দিন আম্মারের ফেসবুক পোস্টে দেয়া বিভিন্ন স্ক্রিনশট |ছবি: এখন টিভি

ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি তাদের নজরে আসে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনসংক্রান্ত আরও কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার কথাও বলা হয়।

এতে বলা হয়, এসব অভিযোগ ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শাখা শিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আম্মারের সাথীপদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তবে শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত হওয়া ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন আম্মার।

ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরে শাখা শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এবার শিবিরের সাথী হিসেবে আম্মারের নাম সামনে আসায় ডামি প্যানেলের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

উল্লেখ্য, আজ (বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার হিসেবে দেয়া নতুন অ্যাম্বুলেন্সটি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে নয় বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) উদ্যোগে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। তার দাবি, অ্যাম্বুলেন্সটি আনার প্রক্রিয়া তিনি শুরু করলেও পরে সেটিকে শিবিরের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন তিনি।

এরপর ক্যাম্পাসে সমালোচনা শুরু হলে গত ৩১ জুলাই রাবি শাখা শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের দেয়া এক চিঠি এবং গতবছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠি সামনে আসে।

এএইচ