বেলগ্রেডের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে দেয়া বক্তব্যে ভুচিচ বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আগামীকাল সকালে পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করব।’
পদত্যাগের সময় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে তার সমর্থকেরা ভুচিচের নাম ধরে স্লোগান দেন।
সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শুরু হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের রেলস্টেশনের একটি ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর। দুর্ঘটনার জন্য সরকারি দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে শিক্ষার্থীরা প্রথমে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তোলে। পরে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবিতে পরিণত হয় আগাম নির্বাচন।
গত দুই বছরে আন্দোলনে কখনো কখনো লাখো মানুষ অংশ নেন। ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর দেশটিতে এত বড় বিক্ষোভ আর দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।
ভুচিচ এর আগে আগাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি ২৫ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। দেশে ‘বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার’ কথা উল্লেখ করে তিনি ওই নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন।
২০১৭ সালে প্রথমবার সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ভুচিচ। ২০২২ সালের মে মাসে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন তিনি। সংবিধান অনুযায়ী এটি ছিল তার দ্বিতীয় ও শেষ পাঁচ বছরের মেয়াদ। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় সাত মাস আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আগাম সরে দাঁড়ানো তার জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ছিল না।
পদত্যাগের পর ভুচিচ বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে, জনগণের একজন হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।’ তার নেতৃত্বাধীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির নির্বাচনি তালিকায় থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
পদত্যাগের কয়েক মিনিট আগেও সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেন ভুচিচ। এদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও তার দলের সমর্থকেরাও ছিলেন। বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।
ভুচিচ বলেন, ‘আমি ৪৯ জনকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের মধ্যে ২৩ জন গত দেড় বছরে আমরা যে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে গেছি, সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।’
সার্বিয়ার প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এখন পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন। সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
আগামী ২৫ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি ও তার মিত্রদের মুখোমুখি হবে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এবং বিরোধী দলগুলোর জোট। এরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভুচিচের পদত্যাগে সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবের নতুন পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে আসন্ন নির্বাচনে তার দল সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলের মাধ্যমে।





