প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস ইউনিসেফের

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ | ছবি: সংগৃহীত
0

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউনিসেফ। গতকাল (শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ প্লাজায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে বৈঠকে ইউনিসেফের গ্লোবাল এডুকেশন ডিরেক্টর পিয়া রেবেলো ব্রিট্টো এ আশ্বাস দেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষায় এডটেকের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির সংযুক্তি এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিতের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। একই সঙ্গে গুগলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের শিক্ষাখাতের সংযোগ স্থাপনে ইউনিসেফ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষা-উপকরণের কার্যকর ব্যবহার জরুরি। এটি শিক্ষার্থীদের ভাষা ও অন্যান্য মৌলিক দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখনফল উন্নত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের সক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়। এছাড়া কোনো শিশু যেন শারীরিক বা অন্য প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। সে লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করে।

আরও পড়ুন:

পিয়া রেবেলো ব্রিট্টো প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলাদেশের উদ্যোগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।

ব্রিট্টো জানান, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত, সমতাভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

পরে প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। ইউএন প্লাজার ইউনিসেফ হাউজে আয়োজিত এই বৈঠকের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্কিলস ফর ব্রাইটার ফিউচারস: ইনভেস্টিং ইন হিউম্যান ক্যাপিটাল’। সেখানে তিনি বলেন, ‘তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তি। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই প্রতিটি শিশুকে জ্ঞান, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ কর্মজগতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই।’

এসএস