আজ (শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর) ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে সাহসিকতা, পেশাগত দক্ষতা ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে বিশেষ অবদানের জন্য ৯৮ পুলিশ সদস্যকে পদক দিয়েছে সরকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পানিশমেন্ট অ্যান্ড রিওয়ার্ডে যেমন বিশ্বাস করি, প্রতিনিয়ত শিষ্টের পালন এবং দুষ্টের দমন করে যাচ্ছি। হয়তো শতভাগ ন্যায়বিচার আমরা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে পালন করতে পারছি না, বাস্তবায়ন করতে পারছি না, কিন্তু সময় ফুরিয়ে যায়নি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনাদের সামনে অবারিত সুযোগ, নিজেদের সংশোধিত করুন। একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যায় পর্যন্ত সবার কাছে একটাই মেসেজ দিতে চাচ্ছি; সমাজের প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, জনপ্রত্যাশা পূরণের জন্য আমরা কঠোর হতে বাধ্য হবো।’
তিনি বলেন, ‘সবার কাছে আগেও মেসেজ দিয়েছি। যারা পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, তারা অন্যান্য বাহিনীর মতো পুলিশ বাহিনীকেও অপব্যবহার করেছে, পলিটিক্যালি মিসইউজ করেছে, অ্যাবিউজ করেছে, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়েছেন নির্দেশ—অবৈধ নির্দেশ, বেআইনি নির্দেশ পালন করতে। কিন্তু আমরা সুযোগ দিয়েছি আপনাদের সবাইকে সংশোধনের, জনআস্থা অর্জনের।’
জনপ্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে পরিণতি ভালো হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনে এসে লোয়ার লেভেলে, মাঠ পর্যায়ে কর্তব্য পালন না করার, অবহেলা করার এবং ক্ষেত্রমতে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কেউ কেউ গোপনে সংবাদ দিয়ে অথবা অন্যভাবে সহযোগিতা করার সংবাদ, ইনফরমেশন, তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমি গ্র্যাজুয়ালি যাচ্ছি, কিন্তু খুব নম্রভাবে সংশোধন হওয়ার সুযোগও দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘কোনো পুলিশ অফিসার—যে পদবিরই হোক, যদি জনপ্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না।’
জনগণ এখন জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায় বলে উল্লেখে করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। বলেন, ‘জনগণ এখন আমাদের রাজা-বাদশাহ দেখতে চায় না, তারা জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। কোথাও যেয়ে আপনারা সিনিয়র অফিসাররা এমন কোনো কর্মকাণ্ড করবেন না, যেটা জনগণের চোখে অস্বাভাবিক লাগে, অগণতান্ত্রিক লাগে, এবং এমন কোনো আচরণ অধীনস্থদেরও আপনারা অনুমতি দেবেন না বা প্রশ্রয় দেবেন না, যে কর্মকাণ্ড সমাজের চোখে, জনগণের চোখে অস্বস্তি দেবে, অশান্তি দেবে, পীড়া দেবে।’
তিনি বলেন, ‘ভুলত্রুটি থাকবে। ইন গুড ফেইথ—আইনও সেটা ক্ষমাযোগ্য। যদি ইন গুড ফেইথ কর্তব্য পালন করতে যেয়ে ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি হয়, সেটা অবশ্যই সেভাবে দেখা হবে।’
১০ মে শুরু হয় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। তবে সেদিন পদকপ্রাপ্তদের হাতে রাষ্ট্রীয় পদক তুলে দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা হয়নি। সে সময় ১০৭ জন পুলিশ সদস্যকে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
পদক প্রদান স্থগিত হওয়ার কয়েক মাস পর নতুন করে চূড়ান্ত করা হয়েছে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা। এবার সাহসিকতা, পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পদক পাচ্ছেন ৯৮ পুলিশ সদস্য।
চার ক্যাটাগরিতে দেয়া হচ্ছে এসব পদক। এর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ পদক—বিপিএম পেয়েছেন ১৩ জন, বিপিএম-সেবা ১৮ জন, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক—পিপিএম ২৩ জন এবং পিপিএম-সেবা পেয়েছেন ৪৪ জন।
পুলিশকে জনবান্ধব হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘গণহত্যাকারীদের কেউ দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।’
সাহসিকতা, দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এই পদক পুলিশ সদস্যদের পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। পাশাপাশি বাহিনীর অন্য সদস্যদেরও নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।




