দেশেই হবে ক্রিকেটারদের ইনজুরির চিকিৎসা, বিসিবির বড় উদ্যোগ

খেলোয়াড়
খেলোয়াড় | ছবি: এখন টিভি
0

ইনজুরিতে পড়লে আর বিদেশে চিকিৎসা নয়, বরং দেশেই মানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশি ক্রিকেটাররাও বাংলাদেশে এসে চিকিৎসা করাবে। এমনই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বিসিবির মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। বায়োমেকানিক্সের সহায়তায় ক্রিকেটারদের ইনজুরিও অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

ক্রিকেট আর ইনজুরি, একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশে যেন তার প্রবণতা আরও বেশি। হরহামেশাই ইনজুরিতে পড়েন ক্রিকেটাররা। এরপর ছোটেন বিদেশের পানে। অস্ত্রোপচারের জন্য তাসকিন-মুস্তাফিজরা যেমন শরণাপন্ন হন অস্ট্রেলিয়ান সার্জনের তেমনি লিটন দাসদের ছুটতে হয় সিঙ্গাপুরে।

ইনজুরি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে বিদেশ বিভূঁইয়ে ছুটতে মোটা অংকের অর্থও গুণতে হয় বিসিবিকে। যেটি বাঁচাতে এবার তৎপর হচ্ছে বোর্ড।

বিসিবি মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম বলেন, ‘একটি পেশেন্টকে সিঙ্গাপুরে ট্রিটমেন্ট করতে পাঠালে, একটা ন্যাশনাল টিমের প্লেয়ারদের পেছনে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। দুইটা প্লেয়ার পাঠালে ৫০ লাখ টাকা খরচ। এই ৫০ লাখ টাকা দিয়ে আমরা অনেক ফিজিও ট্রেইন করে ফেলতে পারি, অনেক ডাক্তার তৈরি করে ফেলতে পারি। সেটা আমাদের জন্য আরও অনেক বেটার। প্রপার স্পোর্টস মেডিসিনের লোকদেরকে জায়গায় করে দিতে পারি। আমি বিশ্বাস করি যে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ট্রিটমেন্ট করার জন্য বাংলাদেশে আসবে। এই জন্য অনেক বেশি টাকারও প্রয়োজন নাই, অল্প কিছু টাকাতে আমরা কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমাদের এখানে স্পোর্টস মেডিসিনটা অনেক বেশি ইমপ্রুভ করতে পারে।’

২৫ থেকে ৩০ লাখ খরচ হয় একজনের পেছনে। সে টাকায় ভালো মানের চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। আমরা যাবো না, আমাদের এখানে আসবে চিকিৎসা করাতে

প্রতিকার নয়, প্রতিরোধই উত্তম-এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হচ্ছে বিসিবি। ইনজুরির চিকিৎসার চেয়ে ইনজুরি কিভাবে কমিয়ে আনা যায় তারই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বোর্ড। দেরিতে হলেও বায়োমেকানিক্সের প্রবর্তন করতে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আর তাতে পেসারদের ইনজুরির শঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে বলে প্রত্যাশা মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যানের।

তিনি বলেন, ‘বায়োমেকানিক্স ইন্ট্রোডিউস করবো, বাট ইট উইল টেক টাইম। বাট সেটা নিয়ে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। যাতে আমরা ইনজুরিটা আগেই ডিটেক্ট করতে পারি যে, এইভাবে স্টাইলে বল করলে ও ইনজুরিতে পড়বে কি পড়বে না। এইভাবে ওই কোন মাসলটার ওপর বেশি মানে ইয়ে পড়ছে, চাপ পড়ছে। আমরা প্রত্যেকটা অ্যাঙ্গেলের ওপর হাজার রকমের ছবি তোলা হবে, ইমেজ তোলা হবে, সেটাকে ডাটা এনালাইসিস করা হবে, ডাটা ম্যানেজমেন্ট করা হবে, সো মেনি থিংস। এটা আমাদের করতে হবে। এইভাবে না করে আমরা আন্ধার মতো চলতে পারবো না।’

ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঠিক রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মেডিকেল টিম। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে আলাদা মেডিকেল ইউনিট গঠনের কথাও ভাবছে ক্রিকেট বোর্ড।

এফএস