তাইজ-এডেন মহাসড়কে হুথিদের বড় সামরিক অভিযান ব্যর্থ করে দেয়ার দাবি ইয়েমেন সরকারের

হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী শিবির
হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী শিবির | ছবি: র‍য়টার্স
0

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, তারা বন্দর নগরী এডেনগামী একটি কৌশলগত সরবরাহ রুট দখলের জন্য ইরান-সমর্থিত হুথিদের বড় ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করেছে। বৃহস্পতিবার সরকারি একাধিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

পার্বত্য ও আঁকাবাঁকা এই সড়কটি ‘হেজাত আল-আব্দ’ নামে পরিচিত। চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতকে কেন্দ্র করে হুথিরা আকস্মিক অগ্রযাত্রা শুরু করলে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়া ইয়েমেন সরকারের জন্য রাস্তাটি অন্যতম প্রধান রসদ সরবরাহ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এ ছাড়া দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজ এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিপুল মানুষের পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র সচল পথ।

সম্প্রতি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ধরে হুথিরা এগিয়ে আসার পর লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এরপর থেকে তারা সরকারি বাহিনীর ওপর সামরিক চাপ বজায় রেখেছে। তাইজ-এডেন রুটটি পুরোপুরি দখল করতে পারলে হুথিরা তাইজ শহরকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলতে সক্ষম হবে, যা এডেনে অবস্থানরত সরকারের জন্য বড় আঘাত হিসেবে দেখা দেবে।

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে গৃহযুদ্ধে ঝিমিয়ে পড়া ইয়েমেনে নতুন এই সংঘাত পরিস্থিতিকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে। হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরসহ অন্যান্য উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। এই প্রণালিটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সুয়েজ খাল দিয়ে চলাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে এখন পর্যন্ত ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ বাঁচাতে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকায় আশ্রয় নিয়েছেন।

এএম