জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার বাকি আর ১০০ দিন। এমন এক সময়ে বৈশ্বিক এ সংস্থার দায়িত্ব সামলেছেন, যখন একের পর এক ভূরাজনৈতিক বিভক্তি, সংঘাত, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নানা ইস্যুতে টালমাটাল বিশ্ব।
জাতিসংঘে সাবেক পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী, আন্তোনিও গুতেরেসের পাঁচ বছরের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। সংস্থাটির প্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদে দেয়া শেষ ভাষণে ৭৭ বছর বয়সী নেতা প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতার উপস্থিতিতে তুলে ধরেন জাতিসংঘের ভেতরের অচলাবস্থার কথা, জোর দেন ১৫ সদস্যের প্রভাবশালী নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের ওপর।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমাদের নিরাপত্তা পরিষদকে সংস্কার করতে হবে, যেখানে বর্তমান বিশ্বের প্রতিফলন থাকবে। বর্তমান প্রতিবন্ধকতার নিরসনে কার্যকর ও বৈধ পরিষদ প্রয়োজন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের পর বিশ্ব আমূল বদলে গেছে। এই পরিবর্তনের কোনো প্রতিফলন আজকের নিরাপত্তা পরিষদে নেই।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক সমাধান, জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে বাধ্যতামূলক জরিমানা আদায় ইত্যাদি ইস্যুতে কথা বলে গুতেরেস প্রশংসা কুড়ান উপস্থিত প্রতিনিধিদের। আওয়াজ তোলেন আধিপত্যবাদীদের বিরুদ্ধেও।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আধিপত্যের ক্ষমতা নয়, বরং সবার জন্য উপকারী ভবিষ্যৎ গড়ার শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের বিশ্বের বিচ্যুতিগুলো আরও বড় হচ্ছে। ছোট ছোট ফাটলগুলো গিরিখাতে রূপ নিয়েছে। গতকাল পর্যন্ত, গত এক দশকে একের পর এক যুদ্ধের ফল হয়েছে ভয়াবহ, অবর্ণনীয় বর্বরতার সাথে সেসব যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।
টানা ১০ বছর ধরে কাজ করছেন যে বিশ্বনেতাদের সাথে, শেষ ভাষণে তাদের বেশিরভাগের কাছ থেকেই বিদায় নেন জাতিসংঘ মহাসচিব। বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রস্থলে এ বছরের সম্মেলন এড়িয়ে গেছেন চীন, ভারত, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা।





