যুক্তরাজ্যে বাড়ছে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন, অভিযোগ বর্ণবাদ-ধর্মবিদ্বেষের

অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন
অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাজ্যজুড়ে বাড়ছে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন। বাড়ছে বর্ণবাদ ও ধর্মবিদ্বেষের অভিযোগ। মুখোশধারীদের সহিংসতা, সংস্কারপন্থিদের উত্থান আর রাজনৈতিক মেরূকরণ- সবমিলিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে অভিবাসী কমিউনিটির।

অভিবাসী ইস্যুতে মুখোশধারীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘাত, সড়ক অবরোধ সম্প্রতি নিয়মিত খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রিটিশ ভূখণ্ডে। মাত্র ১৮ মাসের ব্যবধানে অভিবাসনবিরোধী ২৮টি নতুন গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে যুক্তরাজ্যে, দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য।

চলতি মাসের শুরুতেই, ছোট নৌকায় চড়ে শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীর যুক্তরাজ্যে অনুপ্রবেশের চেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, দ্রুতই রূপ নেয় সংঘর্ষে। বহু সংস্কৃতি, বহু জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থানের দেশটিতে 'অভিবাসী' এখন রাজনীতিতে সবচেয়ে বিস্ফোরক শব্দগুলোর একটি।

যুক্তরাজ্য কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার আতাউর রহমান বলেন, ‘পার্লামেন্টে তারা বিতর্ক আনতেছে বর্ণ ব্রিটিশ ন্যাশনাল আর নন ফরেন বর্ণ ব্রিটিশ ন্যাশনাল। এ ধরনের একটা ডিভিশন তারা ক্রিয়েট করার চেষ্টা করছে।’

বেলফাস্ট থেকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল পর্যন্ত গেলো দেড় বছরে কট্টর অভিবাসীদের উত্থান লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। কালো মাস্ক আর হুডি পরে বিক্ষোভ-সহিংসতা, এমনকি পুলিশের ওপর হামলাও করে উগ্রবাদীরা। আন্দোলন থেকে বোরকা পরা এক পুরুষও আটক হয়। এসব বিক্ষোভের পেছনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্ণবাদের উসকানি এবং এসবের জন্য ডানপন্থি দলগুলোকেই দায়ী করছেন রাজনীতিবিদরা।

যুক্তরাজ্য টাওয়ার হ্যামলেটসের লেবার নেতা কাউন্সিলর আবদাল উল্লাহ বলেন, ছে বর্তমানে লেবার গভর্মেন্ট ভোটার সংখ্যা এখন কমাচ্ছে।’

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনায় গত এক বছরে যুক্তরাজ্যে বর্ণবিদ্বেষী অপরাধ ছয় শতাংশ এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ ২৫ শতাংশ বেড়েছে। গত ৫ বছরে ধর্মীয় সহিংসতা বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। কট্টর অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’র নীতির প্রভাব অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ওপরেও পড়ছে।

সারা বিশ্বে ইসলামভীতি, অভিবাসনবিরোধিতা আর উগ্রবাদী ডানপন্থার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যেও। বিশেষ করে সংস্কারপন্থি রিফর্ম ইউকে’র রাতারাতি উত্থান, দলটিতে বিপুল পরিমাণ অনুদানে রাজনৈতিক দাবার চাল উল্টে যায় কি না, সেটিই পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেআর