গত ৩ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই তাদের নতুন এআই মডেল অ্যাস্ট্রা উন্মোচন করার সময় স্বীকার করে যে, তারা নিজেদের তৈরি এআই ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ঠিক কিছুদিন পর নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের এআই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে বলে খবর প্রকাশিত হয়।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ৮ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের তরুণ গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, এআই ল্যাবগুলো মানুষের জীবন নিয়ে একধরনের জুয়া খেলছে। এর পর থেকেই প্রযুক্তি শিল্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং গবেষকেরা সতর্ক করেন যে, মানুষের সমান বা তার চেয়ে বেশি দক্ষতাসম্পন্ন এআই (এজিআই) আর মাত্র তিন বছরের মধ্যেই চলে আসতে পারে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ১২ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোদি এক নিবন্ধে এআইয়ের বিকাশ ধীরগতির করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এআইয়ের স্বয়ংক্রিয় দল পুরো ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তাঁর এই আহ্বানে নীতিগত সমর্থন জানান ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান, এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং গুগলের ডিপমাইন্ড প্রধান ডেমিস হাসাবিস।
তবে এআইয়ের বিকাশ থামানোর এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং মেটার মার্ক জাকারবার্গ। মেটার মতে, শিল্পজুড়ে সমন্বিত বাধ্যবাধকতার চেয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জবাবদিহি থাকা উচিত। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই ভীতিকে একটি ‘গুজব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এআইয়ের গতি কমানো হলে তার সুফল কেবল চীনই পাবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের লক্ষ্য অর্জনের প্রতিযোগিতাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত নতুন মডেল উন্মোচনে বাধ্য করছে। নিরাপত্তা নিয়ে এত বিতর্কের মধ্যেও ওপেনএআই নতুন অর্থায়নের কথা ভাবছে, যা তাদের প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পারে।





