গতকাল (রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার দিনাজপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন সীমান্ত পিলার ৩৪০/৩-এস এলাকার শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় মরদেহটি হস্তান্তর করে বিএসএফ।
রাত সাড়ে ১০টায় মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ৪২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন। নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার ইন্দ্রইল গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৩৩৩/২-এস থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন কয়েকজন বাংলাদেশি।
এ সময় চকশিবান্ধা (চকশিবানন্দ) ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে আসাদুল হক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিন (৩৪) ও মনসা বর্মনের ছেলে উদা চন্দ্র রায় (৩৫) নামের আরও দুই বাংলাদেশি আহত হয়ে বিএসএফের হাতে আটক রয়েছেন।
মরদেহ হস্তান্তরের আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রামনা-চান্দোহর সীমান্ত পিলার ৩৩৩/২-এস এলাকার শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল আল মুইনের নেতৃত্বে বিজিবির প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। অপরদিকে ভারতের চাদগাঁও বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার সূরিয়া পালের নেতৃত্বে বিএসএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পতাকা বৈঠক শেষে রাত ৯টায় শূন্যরেখায় মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরকালে ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল আল মুইন, বৈরচুনা এলাকার বিজিবির তিন ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শাহ আলম এবং চাদগাঁও বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার সূরিয়া পালসহ উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।





