চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাটি লিথোপেডিয়ন নামে পরিচিত। এটি এক ধরনের অস্বাভাবিক গর্ভধারণ, যেখানে ভ্রূণ মারা গেলেও তা মায়ের শরীরে মিশে যেতে পারে না। মৃত ভ্রূণটি পেটের ভেতরে থেকে যায় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর চারপাশে ক্যালসিয়ামের শক্ত আবরণ তৈরি হয়ে এটি পাথরের মতো জমাট বেঁধে যায়।
বৃদ্ধার পরিবার জানায়, ব্রাজিল-প্যারাগুয়ে সীমান্তবর্তী একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর বাসিন্দা ছিলেন এই বৃদ্ধা। দীর্ঘদিন ধরে পেটে তীব্র ব্যথায় ভুগলেও চিকিৎসক ও হাসপাতালের যন্ত্রপাতির ভয়ে তিনি কখনো পরীক্ষা করাতে রাজি হননি। ব্যথা কমাতে বিকল্প চিকিৎসার ওপর ভরসা করতেন তিনি। সম্প্রতি সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করলে তাকে ব্রাজিলের মাতো গ্রোসো দো সুল রাজ্যের পন্টা পোরা আঞ্চলিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে চিকিৎসকরা ক্যানসারের আশঙ্কা করলেও থ্রিডি টমোগ্রাফি পরীক্ষায় তার পেটে লুকিয়ে থাকা পাথর শিশুটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
দানিয়েলার মেয়ে রোজেলি আলমেইদা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখনো ঘোরের মধ্যে আছি। মা-ই ছিলেন আমাদের একমাত্র অভিভাবক। তাকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’ পরিবারের সদস্যদের ধারণা, চিকিৎসকদের অনুমান করা ৫৬ বছরের চেয়েও বেশি সময় ধরে ভ্রূণটি তার পেটে ছিল। মৃত্যুকালে সাত সন্তান ও ৪০ জন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন এই বৃদ্ধা।
জার্নাল অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি অব মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৯০টি লিথোপেডিয়নের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
—ইউকে মিররের প্রতিবেদন অবলম্বনে
 found inside the Brazilian woman-768x402.webp)




