ইন্দোনেশিয়ায় বিনামূল্যের স্কুল খাবারে বিষক্রিয়া, অসুস্থ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী

পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোর শিশুরা আঞ্চলিক সরকারি হাসপাতালে
পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোর শিশুরা আঞ্চলিক সরকারি হাসপাতালে | ছবি: ডেয়চে ভেলে
0

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনামূল্যের স্কুল খাবার খেয়ে গত এক সপ্তাহে ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অগ্রাধিকারভিত্তিক এই ব্যয়বহুল কর্মসূচি ঘিরে শুরু থেকেই স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।

জাভা দ্বীপের লাসেম শহরের একটি স্কুলে বুধবার বিনামূল্যের খাবার খাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে অন্তত ৭২৫ শিক্ষার্থী ও ২৫ জন শিক্ষক অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিরা ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হন। তিনি আরও জানান, স্কুলের দুটি শৌচাগার সংস্কারের কাজ চলায় অসুস্থ ব্যক্তিরা শৌচাগারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন।

একই সপ্তাহে পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ৬০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী, পরে তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়। এছাড়া বুধবার পূর্ব জাভার নাঞ্জুক শহরে ৪৯ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রার আগাম অঞ্চলে ২৩৭ জন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন।

খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এই ব্যাপক বিষক্রিয়া ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাসেমের স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, খাদ্য পরীক্ষক সরবরাহ করা মুরগির রোস্টে পিচ্ছিল ভাব দেখতে পেয়ে কিছু খাবার সরিয়ে রেখেছিলেন। রান্নাঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ভোররাত তিনটায় খাবার রান্না করে দুপুরবেলা সরবরাহ করেছিলেন বলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উল্লেখ করে আইনপ্রণেতা চার্লস হোনোরিস জানান, কর্মসূচিটি চালুর পর থেকে খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। এই ঘটনাকে পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া ১ হাজার ২৯৪ কোটি ডলার ব্যয়ের এই কর্মসূচিটি প্রায় আট কোটি শিশু এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়। তবে কর্মসূচির শীর্ষ পর্যায়ে ঘন ঘন পরিবর্তন, আর্থিক অনিয়ম এবং ধারাবাহিক বিষক্রিয়ার ঘটনায় উদ্যোগটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। কর্মসূচিটি তদারককারী জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান পার্লামেন্ট শুনানিতে জানিয়েছেন, বিষক্রিয়ার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এএম