ইরানের ওপর মার্কিন চাপ অব্যাহত; সীমাবদ্ধতার মুখে চীনের সহযোগিতা

চীন ও ইরানের জাতীয় পতাকা
চীন ও ইরানের জাতীয় পতাকা | ছবি: আল জাজিরা
0

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও তেহরানের পাশে বেইজিংয়ের সমর্থন একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য বন্ধুদেশের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতেই চীন এমন সতর্ক নীতি গ্রহণ করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল কিনেছে চীন। তবে এই তেল চীনের মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২ শতাংশের মতো। ফলে তেহরানের জন্য চীন বড় অর্থনৈতিক নির্ভরতা হলেও বেইজিংয়ের কাছে বিকল্প জ্বালানি উৎস রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রপথে মার্কিন কড়াকড়ির কারণে সম্প্রতি ইরান থেকে চীনে তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

শিপ-ট্যাকিং প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ-এপ্রিলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক ১৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হলেও আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে। সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট কর্মসূচির আওতায় তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, চীন থেকে ইরানে অর্থ আদান-প্রদান শিগগিরই বন্ধ হয়ে আসছে।

সম্প্রতি কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপস্থিত ছিলেন। দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হলেও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তা উল্লেখ করা হয়নি। বিশকেক থেকে শি জিনপিং সরাসরি মিসর সফরে যান এবং সেখানে যেকোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান।

চীনের শাওক্সিং বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়না-মিডল ইস্ট সেন্টারের পরিচালক হংদা ফ্যান বলেন, ‘ব্যাপক বৈশ্বিক স্বার্থের কারণে চীন কেবল সংঘাত কমানোর উদ্যোগ নিতে পারে। কিন্তু ইরানের স্বার্থে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি তীব্র সংঘাত বা মুখোমুখি লড়াইয়ে জড়াবে না।’

চায়না অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশন সেন্টারের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল জিচেন ওয়াং জানান, চীনের মূল বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করলেও তেহরানকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেবে না বেইজিং। এছাড়া ২০২১ সালে দুই দেশের মধ্যে ২৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত চুক্তি সই হলেও সিনোপেক ও পেট্রোচায়নার মতো চীনের প্রধান ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে ইরানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ থেকে বিরত রয়েছে।

এএম