কাবাডি ফেডারেশনের অর্থ লোপাটের অভিযোগ, তদন্তে অ্যাডহক কমিটি

কাবাডি ফেডারেশন
কাবাডি ফেডারেশন | ছবি: এখন টিভি
0

প্রায় ৯ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে কাবাডি ফেডারেশনে। তবে কোথা থেকে এই টাকা এসেছে, তার উত্তর নেই ফেডারেশনের কাছে। অভিযোগের তীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাওয়াজ সোহাগের দিকে। ফেডারেশন বলছে, কেবল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই তদন্তে নেমেছে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। আর অভিযুক্ত নাওয়াজ সোহাগের ভাষ্য, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের পর থেকেই বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় কাবাডি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নাওয়াজ সোহাগকে। তখন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিভিন্ন পর্যায়ে বিক্ষোভও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে, এবার নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিও তদন্তে নেমেছে সোহাগের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ফেডারেশন থেকে প্রায় ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।

এখন টিভির হাতে থাকা কাবাডি ফেডারেশনের বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্লেষণ করে অবশ্য এই ৮ কিংবা ৯ কোটি টাকার কোনো সংখ্যা পাওয়া যায়নি। জুলাই মাসে নতুন অ্যাডহক কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়ে আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করেছিল এস এম নাওয়াজ সোহাগের কমিটি। সেই হিসেব এখন পর্যন্ত আতশী কাঁচের নিচে রেখেছে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি।

তবে, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তারিখের এক নথিতে ৮ কোটি টাকা লোপাটের একটি অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে, সেই অভিযোগ থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আগেই মুক্তি দিয়েছে এস এম নাওয়াজ সোহাগকে।

আরও পড়ুন

তদন্ত কমিটির সদস্য এবং কাবাডি ফেডারেশন সদস্য এম এ হাফিজ এখন টিভিকে জানান, বর্তমান কমিটির একাধিক সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতেই ফেডারেশন প্রধান ও আইজিপি নির্দেশ দেন পূর্ণাঙ্গ তদন্তের। সেই তদন্তের অগ্রগতিও জানালেন তিনি।

কাবাডি ফেডারেশনের সদস্য এম এ হাফিজ বলেন, ‘প্রতিটা বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পেপারস খুঁজতেছি। আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করে তাদের জবানবন্দি নিচ্ছি। যারা হচ্ছে যে বিভিন্ন কমিটিতে ছিলো, যারা বিভিন্ন কাজ কন্ট্রিবিউট করেছে তাদের মত নিচ্ছি। আমরা বিভিন্ন ডকুমেন্ট খুঁজতেছি।’

অবশ্য অভিযুক্ত এস এম নাওয়াজ সোহাগ প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে। বর্তমান কমিটির সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধিতা থাকায় প্রশ্ন তুললেন তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে। যদিও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতেও প্রস্তুত বলেই জানালেন তিনি।

আরও পড়ুন

কাবাডি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘সরকার থেকে পয়সা এনেছি, সরকারকে আবার পয়সার হিসাব বুঝিয়ে দিয়েছি। আমি ওয়ার্ল্ড কাপের সময় ৫ কোটি টাকা এনেছি, তার কাগজপত্র আমি বুঝিয়ে দিয়েছি। এনএসসি আমাকে বিভিন্ন সময় টাকা দিয়েছে, রিইম্বার্স বিল আমি দিয়েছি। আমি ডকুমেন্টেশন নিয়ে রেডি আছি। যখন আমাকে ডাকবে, আমাদের কাছে অল ডকুমেন্ট আছে। তদন্ত অবশ্যই নিরপেক্ষ হইতে হবে। আপনি যারা আমাকে ডিস্টার্ব করছে তারাই কিন্তু আবার তদন্ত করে, তাহলে তো এটা হবে না।’

আর এমন সংশয়ের বিপরীতে তদন্ত কমিটির সদস্য এম এ হাফিজ বললেন, অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ থাকবে।

কাবাডি ফেডারেশনের সদস্য এম এ হাফিজ বলেন, ‘সাহসিকতা এবং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই যে, যে তদন্ত হবে সুষ্ঠু এবং অবাধ হবে। যে উনি বলে থাকে যে কেউ উনার বিরুদ্ধে আগে থেকেই উনাকে ডিস্টার্ব করছে বা উনাকে আগে থেকেই উনার সঙ্গে পরিচিত কেউ এসে থাকে, আমার মনে হয় না কেউ থেকে থাকলেও আমাদের তো ৫ জন বা ৬ জন আমাদের কমিটি। আমরা ৩ জনেই যদি অনেস্ট থাকি, আমার মনে হয় না যে কেউ এ তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারবে।’

শেষ পর্যন্ত অবশ্য বিপুল অঙ্কের এ টাকার হদিস কাবাডি ফেডারেশন পাবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

জেআর