রংপুর মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী আজ বিকেলে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ বেলা আড়াইটার দিকে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’
সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনার আট দিন পর আসামিদের মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এত দিন পর মূত্রের পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। দু–তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করলে তা পাওয়া যেত।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্টের জন্য মূত্র পরীক্ষা করা হয়। চুল বা রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ নেই।
পুলিশের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল, চারজনকে হত্যার আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করেছিলেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও তারা হত্যার আগে আট থেকে ৯টি ইয়াবা সেবনের কথা বলেছেন।’
ডোপ টেস্টে মাদক না পাওয়ার বিষয়টি ওই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘তদন্ত তো চলছেই। আমরা বসে নেই। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
রোববার রংপুর ডিবি পুলিশের সদস্যরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। সেখানে কারাগারের ভেতরেই সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাদের কারাগারের বাইরে এনে ডোপ টেস্ট করা হলে হামলা বা মব তৈরির আশঙ্কা থাকায় কারাগারের ভেতর থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ওই চারজনকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ইতোমধ্যে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, মাদক সেবনে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে ওই চারজনকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।





