মার্কিন দূতের দাবি—আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে বাংলাদেশ আরও উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।

গতকাল (রোববার, ৩০ আগস্ট) নিজের মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। তবে নতুন করে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে বা এ বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সার্জিও গর বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চলতি সপ্তাহেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছেন। এর আওতায় বাংলাদেশ শত কোটি ডলারে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ নতুন ক্রয়াদেশটি বাংলাদেশের আগের ক্রয়াদেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে, গত এপ্রিল মাসে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। চুক্তির আওতায় রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। এসব উড়োজাহাজ কিনতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

সার্জিও গরের স্ট্যাটাস |ছবি: সংগৃহীত

চুক্তি অনুযায়ী, বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। পর্যায়ক্রমে ২০৩৫ সালের মধ্যে বাকি উড়োজাহাজগুলোও বহরে যুক্ত হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন সার্জিও গর। গত ৩০ জুলাই ঢাকায় এসে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফর শেষে দিল্লি যাওয়ার আগে দুই দেশের সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন তিনি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ নিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালনা করছে। চাহিদা মেটাতে বিমানের বহরে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন বলে কর্মকর্তারা মনে করেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪১ সালের মধ্যে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে, আগের সরকারের সময়ে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হয়।

এএইচ