সুন্দরবনের মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রজনন, বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ এবং বনজ উদ্ভিদের পুনর্জন্মের সুযোগ দিতে প্রতিবছর জুন, জুলাই ও আগস্টে বনে প্রবেশ ও সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকে। এ সময় পর্যটন কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়।
বন বিভাগের দাবি, তিন মাস মানুষের চলাচল ও নৌযানের চাপ কম থাকায় বনের ভেতরে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ বেড়েছে এবং নতুন চারার বৃদ্ধি হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অবৈধ তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। এ সময়ে ৬৩টি অভিযান চালিয়ে ৩৯টি মামলা করা হয়েছে এবং ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে তিন মাস আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন বহু বনজীবী। বুড়িগোয়ালিনীর বনজীবীরা জানান, বন ও মাছ রক্ষার স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন হলেও এ সময় তাদের বিকল্প আয়ের সুযোগ থাকে না। সংসার চালাতে অনেককেই উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়।
বনজীবী মনিরুল ইসলাম জানান, বন খুললেও প্রথম দিকের আয় চলে যাবে মহাজন ও এনজিওর ঋণ পরিশোধে। তাই বন্ধ মৌসুমে নিয়মিত সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৮ হাজার ২৭১ পরিবারকে জুলাই ও আগস্টের জন্য পরিবার প্রতি ৮০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেয়া হয়েছে।
নতুন মৌসুমের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বনজীবীদের। কালিঞ্চির বনজীবী আলতা নূরের অভিযোগ, আগের মৌসুমে দস্যুদের চাঁদা ও অপহরণের আতঙ্কে থাকতে হয়েছে। একাধিক বনজীবীর দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাঁদা দেয়ার পর নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের টাকার নোট ‘কোড’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
এদিকে বন খোলাকে কেন্দ্র করে আশাবাদী পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। বুড়িগোয়ালীনি ফরেস্টঘাট ট্রলার মালিক সমিতির নেতা মো. হালিম বলেন, ‘পর্যটকের আনাগোনা বাড়লে ট্রলারচালক, শ্রমিক, দোকানদারসহ স্থানীয় বহু মানুষের আয় আবার সচল হবে।’
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম মেনে পাশ দেয়া হবে। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দস্যু দমন, বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও অন্যান্য বন অপরাধ ঠেকাতে টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’




