সারের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা | ছবি: এখন টিভি
0

কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বেশি টাকা দিলে যেসব খুচরা বিক্রেতা সার সরবরাহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজ (শনিবার, ২৯ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফরিদপুরের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকের উন্নতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সরকার তা করবে। সরকার বিশ্বাস করে, কৃষকের উন্নতি হলে দেশের অগ্রগতি হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন কারণে মাটির গুণগত অবস্থা আগের মতো ভালো নেই। তবে ফরিদপুরের মাটি এখনো দেশের মধ্যে অন্যতম সেরা। এ ধরনের উর্বর মাটি দেশের অন্য অনেক জেলায় পাওয়া কঠিন। ফলে ফরিদপুরের কৃষিকে আরও এগিয়ে নেয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। একইসঙ্গে কৃষিতে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশিয় উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা।

আরও পড়ুন:

আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আগামীতে কোনো কৃষিপণ্য আমদানি করতে না হয় কৃষিতে সরকারের মূল টার্গেট সেটিই। আমরা নিজেরাই উৎপাদন করার চেষ্টা করছি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কষ্ট ও পরিশ্রম করতে হবে।’

সারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের মোট চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা থাকে। তাই দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারী ও ষড়যন্ত্রকারী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে রাখছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু খুচরা সার বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছে। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছে।

তাহলে সংকট কোথায়?— প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী। অতি লোভী কিছু মানুষ এ ধরনের কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন:

জেলার সার ডিলারদের সতর্ক করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ডিলার তার বরাদ্দের সার সময়মতো না তুললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কৃষকদের কাছে সঠিক দামে ও সময়মতো সার পৌঁছে দিতে ডিলারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরব হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএস