জামালপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো। লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিল্প-মালিকরা। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে কর্মঘণ্টা হিসেবে কাজ করা শ্রমিকদের আয়ও কমে গিয়েছে। এতে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
শ্রমিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাদের এখানে বিদ্যুৎ ছাড়া তো কারখানা অচল। কারণ বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো সেকশনই চলে না।’
অন্য একজন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকাতে প্রোডাকশন কম হইতেছে। আমাদের ব্যয় হচ্ছে বেশি, আয় হচ্ছে কম।’
মালিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘উৎপাদন অনেক কম হইতাছে, আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হইতাছি। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের লসের দিকে যাইতাছে।’
আরও পড়ুন:
সারা দিনের কর্মব্যস্ততার পরে ঘরে ফিরেও স্বস্তি নেই মানুষের। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্মের চরম ব্যাঘাত ঘটছে। মোমবাতি ও মোবাইলের আলো এখন একমাত্র ভরসা। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষিজমিতে সেচ দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছে কৃষক। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে আরও ভয়াবহ অবস্থা। সেখানে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা প্রতিনিয়ত লোডশেডিং হচ্ছে।
গ্রামে বসবাসকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘দিনে তিন বার, চার বার, পাঁচ বার করে কারেন্ট যায়গা। দিনে সর্বোচ্চ তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় কারেন্ট থাকে। এ দেহাইতাছে যে আপনার কারেন্ট যাইতাছে টাইমমতো, কিন্তু আসার আর খবর নাই।’
গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহের কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। খুব শিগগিরই উৎপাদন বাড়বে বলে জানান কর্মকর্তারা।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুতের প্রোডাকশন বা সরবরাহ একটু বেশি হচ্ছে না। সরকারের এ বিষয়ে আসলে সদয় দৃষ্টি আছে। আমরা আশা করবো খুব শিগগিরই বিদ্যুতের এই প্রোডাকশন বাড়বে এবং সরবরাহ বাড়বে।’
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন ১৮টি উপজেলায় ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট।




