বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। গত জুনে ঘোষণা করা পেন্টাগনের এই ছয় মাসের পর্যালোচনার ফলে মহাদেশটিতে থাকা মার্কিন সেনাসংখ্যা বড় অঙ্কের কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ন্যাটো মিত্ররা। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারণা, ইরানবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে যে ইউরোপীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে পর্যাপ্ত সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতেই এই সেনাসংখ্যা ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার নথিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউরোপে নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন জেনারেল এবং পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবির মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। পিট হেগসেথের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যে বিকল্পগুলো তৈরি করা হবে, তার ভিত্তি নির্ধারিত হবে এই ব্রিফিংয়ে। আজ বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ন্যারো সদর দপ্তরে ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার কথা রয়েছে এলব্রিজ কলবির।
পেন্টাগনের নথিতে দেখা গেছে, ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার, বিমান চলাচলের অনুমতি (ওভারফ্লাইট) এবং মার্কিন বিশ্বব্যাপী সামরিক প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখতে মহাকাশ, সাইবার ও গোয়েন্দা কাঠামোর নির্ভরযোগ্য সুবিধা যাচাই করা হবে। যে ন্যাটো মিত্ররা মার্কিন যুদ্ধবিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বা প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার সেনাসংখ্যা কমিয়ে কেবল সীমিত সহায়তার দিকে এগোবে এবং ন্যাটো মিত্রদেরই এখন মূল প্রতিরক্ষার ভূমিকা নিতে হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কিছু ন্যাটো দেশকে ‘বিনামূল্যে সুবিধা ভোগকারী’ (ফ্রি-রাইডার) বলে তিরস্কার করেছেন।
ইতোমধ্যে ন্যাটো মিত্রদের কাছে একটি প্রশ্নমালা পাঠিয়েছে পেন্টাগন, যেখানে তাদের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, ন্যাটোর সংকটে মার্কিন সেনাদের অনুপস্থিতিতে সৈন্য সরবরাহের সক্ষমতা এবং মার্কিন আকাশসীমা ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ আছে কি না—তার জবাব চাওয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর আগামী শুক্রবারের মধ্যে ওয়াশিংটনে পাঠাতে হবে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা কমানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে একতরফাভাবে নিয়ে ফেলেছে।





