শরীয়তপুরের জাজিরায় কখনো সংঘর্ষে, আবার কখনো ককটেল তৈরি ও মজুতের সময় ঘটছে বিস্ফোরণ। সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অনেকগুলো ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মান্নান সরদার নামে ৭০ বছরের এক ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ জন। বিস্ফোরণে রিপন মোল্লা নামে এক ব্যক্তির কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিরাপত্তা নিয়ে আমরা আতঙ্কেই থাকছি।
বিলাসপুরের চেরাগ আলী বেপারী কান্দির নবীন হোসেন ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে নিহত হন। সন্তান হারানোর শোক আজও কাটেনি পরিবারের।
নবীন হোসেনের মা রুবিনা বেগম বলেন, আমি চাই, যে আমার সন্তান হারিয়েছে, এমন যেন কারো সন্তান না হারায়। কারো বুক খালি না হয়। আমার ছেলের রক্তের উছিলায় যেন সব ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
কোথাও কোথাও গোপনে ককটেল তৈরি ও মজুত করার অভিযোগ রয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, মাঠে-খোলায় আমরা যাই, হঠাৎ করে বোমা ফোটে। নিজেদের যে ক্ষমতা, সেটা ধরে রাখার জন্য সবসময় মজুদ রাখে, স্টক রাখে। যাতে যেকোনো মুহূর্তে লাগতে পারে। ওইগুলাই মাঝেমধ্যে বিস্ফোরণ হয়।
একাধিক ঘটনায় মামলা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি নেই বলে দাবি স্থানীয়দের। পুলিশ বলছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংঘাতপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন বলেন, যারা বোমা ব্যবহারকারী এবং যারা মূল যোগানদাতা, তাদেরকে যেহেতু আমরা আইনের আওতায় অলরেডি এনেছি, আশা করি যে এই সমস্যাটা অচিরেই আপনারা দেখতে পারবেন। এখানে বিলাশপুর শিগগিরই আপনারা দেখতে পারবেন যে আগে থেকে অনেক বেশি নিরাপদ অঞ্চল বলে আপনারা বুঝতে পারবেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শুধু বিলাসপুরেই অন্তত ৮টি স্থানে মজুতকৃত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে ককটেল ব্যবহারের আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।





