৫০–৬০ ডলারে স্মার্টফোন দিতে চায় সরকার

৫০–৬০ ডলারে স্মার্টফোন দিতে চায় সরকার | ছবি: সংগৃহীত
0

দেশের মানুষের হাতে সাশ্রয়ী দামে ডেটানির্ভর স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক এসব স্মার্টফোনের দাম ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বর্তমানে ফিচার ফোন ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক মানুষকে ডেটা নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

আজ (বুধবার, ১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘পাওয়ারিং দ্য ফিউচার: রবি কমপ্লিটস ঢাকা মডার্নাইজেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

রেহান আসিফ বলেন, ‘দেশে এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। মোট মোবাইল গ্রাহক প্রায় ১৪ কোটি হলে এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। বর্তমান সময়ে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘ডেটা ও সংযোগ ছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের অর্থবহ ভবিষ্যৎ নেই। ভালো নেটওয়ার্কের পাশাপাশি মানুষের হাতে সঠিক ডিভাইসও থাকতে হবে। এ জন্য ফিচার ফোন ব্যবহারকারীদের ডেটা-সক্ষম মোবাইল ফোনে নিয়ে আসতে সরকার সহায়তা করবে।’

স্মার্টফোনের দাম কমানোর উদ্যোগ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘বাজেটের আগে স্থানীয় মোবাইল ফোন নির্মাতা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনের কাঁচামালে আগে যে ২৬ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কর, ভ্যাট ও শুল্ক ছিল, তার অনেকটাই কমানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তা শূন্য করা হয়েছে, আবার কোথাও ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে।’

স্থানীয় নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক ডেটা স্মার্টফোন তৈরি করা সম্ভব হতে পারে বলে জানান তিনি। এ ধরনের ফোন উৎপাদনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার আগ্রহও স্থানীয় নির্মাতারা দেখিয়েছেন বলে জানান উপদেষ্টা।

কম দামে স্মার্টফোন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কিস্তি সুবিধা চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। মোবাইল ফোনকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইএমআই কর্মসূচির আওতায় আনা এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কিস্তি সুবিধা দিতে উৎসাহিত করার বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানান রেহান আসিফ।

টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট শিল্পকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘সরকার একা সবকিছু করতে পারে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা মোবাইল অপারেটররাও একা পারে না। গত ছয় মাসে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটর ও শিল্প সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে পুরো শিল্পকে অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’

ঢাকার নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবে ঢাকা দেশের ছোট একটি অংশ হলেও জনসংখ্যা ও অর্থনীতির দিক থেকে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৫ হাজার সাইট রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে সাইট ব্যবস্থাপনা, স্পেকট্রাম, নেটওয়ার্কের শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাকহলসহ নানা কারিগরি চ্যালেঞ্জ।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। আরও উপস্থিত ছিলেন রবি আজিয়াটার প্রধান করপোরেট ও নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শাহেদ আলম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াদ সাতারা।

অনুষ্ঠানে রবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ‘গিগা গ্রিন ৪জি/৫জি রেডি’ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী, ভবিষ্যৎ উপযোগী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করা হয়েছে।

রবির দাবি, নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের ফলে বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে। কল ড্রপ কমেছে ২০ শতাংশ এবং বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ ২০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে অপারেটরটি।

এনএইচ