মশায় ম্যালেরিয়ার জীবাণু, দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে সতর্কতা

ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশা
ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশা | ছবি: সংগৃহীত
0

মশার শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু পাওয়া যাওয়ার পর দেশজুড়ে ম্যালেরিয়া সতর্কতা জারি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার এই সতর্কতা জারি করা হয়। কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (কেডিসিএ) জানিয়েছে, গত ২৭ জুলাই থেকে ২ আগস্টের মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় পাজু ও ইয়েনচেয়ন কাউন্টি থেকে সংগ্রহ করা অ্যানোফিলিস মশার শরীরে ম্যালেরিয়ার ‘প্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স’ পরজীবীর জিনগত উপাদান পাওয়া গেছে।

সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মশার শরীরে এই পরজীবী শনাক্তের অর্থ হলো, সংক্রমিত মশার কামড় থেকে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।’ ভেক্টর মশার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে গত ২২ জুন ম্যালেরিয়া সংক্রান্ত পরামর্শ জারির পরই দেশজুড়ে এই সতর্কতা জারি করা হলো। এর পর ম্যালেরিয়া আক্রান্তের হার বাড়া এবং মশার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশটির পাঁচটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

দেশজুড়ে সতর্কতা জারি সত্ত্বেও, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ জানুয়ারি থেকে ১ আগস্টের মধ্যে দেশের ভেতরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ২০১টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের ৩৫৫টি ঘটনার তুলনায় ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিভক্ত করা অসামরিকীকৃত অঞ্চলের (ডিএমজেড) কাছাকাছি এলাকাগুলোতেই ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় ম্যালেরিয়া সংক্রমণ সীমাবদ্ধ ছিল। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিসর আরও বেড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় অস্বাভাবিক গরমের এই গ্রীষ্মকালেই এই দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হলো। তবে কেডিসিএ জানিয়েছে, তীব্র তাপমাত্রার কারণেই ম্যালেরিয়া ছড়ানো ভেক্টর মশার ঘনত্ব গত বছরের তুলনায় কম রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র গরম কমে গেলে আবারও মশার সংখ্যা বাড়তে পারে। তারা ম্যালেরিয়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কর্তৃপক্ষকে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা জোরদার করতে বলেছেন।

এসব এলাকার বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের রাতে ঘরের বাইরে চলাফেরা এড়িয়ে চলা, লম্বা পোশাক পরা এবং মশা প্রতিরোধক ওষুধ, পর্দা ও মশারি ব্যবহার করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। জ্বর ও কাঁপুনিসহ ম্যালেরিয়ার সন্দেহভাজন লক্ষণ দেখা দিলে জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র বা চিকিৎসাকেন্দ্রে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এএম