তিনি বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে তারা মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে এবং দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। তাই নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধের ঝুঁকিও রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। গান, আবৃত্তি, নৃত্য, নাটক ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় উদ্বুদ্ধ করবে।’
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘একটি জাতির নিজস্ব পরিচয় ও ঐতিহ্য ধারণ করে তার সংস্কৃতি। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার বিস্তার ঘটলে সমাজে অসহিষ্ণুতা ও বিভাজন কমবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। এরই মধ্য দিয়ে একটি আলোকিত, সহনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীতসহ বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরেন। মন্ত্রী এসব পরিবেশনা উপভোগ করেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির হলরুম, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সামগ্রিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং কার্যক্রম আরও আধুনিক, কার্যকর ও সম্প্রসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিকী, বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা লিমন, জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।—বাসস





