মন্ত্রণালয়টি ভূমধ্যসাগরে গত ২ আগস্ট ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘তাও পায়োহ’ জাহাজে চালানো তল্লাশির উদাহরণ টেনে জানায়, ইতালির সামরিক সদস্যরা পোল্যান্ডের একটি টহল বিমান ও গ্রিসের একটি টহল জাহাজের সহায়তায় ওই তল্লাশি চালিয়েছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাহাজটিকে যাত্রা চালিয়ে যেতে দেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, ‘জাহাজটির বিরুদ্ধে করা সন্দেহ স্পষ্টতই প্রমাণিত হয়নি।’
মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, তল্লাশির আইনি ভিত্তি হিসেবে ইউরোপ ‘অপারেশন ইরিনির’ কথা উল্লেখ করছে। তবে জাতিসংঘ-সমর্থিত এই ম্যান্ডেট ২০২৬ সালের মে মাসেই শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ পরিবহনকারীদের ভয় দেখাতে এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করতেই এখন ইইউ এই অভিযান ব্যবহার করছে।
রুশ তেল আটকানোর চেষ্টা?
মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, রুশ তেল ও অন্যান্য পণ্যের সামুদ্রিক পরিবহন ঠেকাতে ইইউ ‘অপারেশন ইরিনিকে’ ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, যা ‘আন্তর্জাতিক আইনি নীতির অপব্যবহার’ এবং ‘অভিযানের ক্ষমতার অতি বিস্তৃত ব্যাখ্যা’ ছাড়া আর কিছু নয়। ইইউর নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিষিদ্ধ রুশ তেল বহনের অভিযোগে ‘শ্যাডো ফ্লিটের’ সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা জাহাজগুলোতে ইইউর তল্লাশির চেষ্টাকেও প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, এই ধরনের তল্লাশির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ইইউর কোনো অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইনসংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশনে দেয়া মৌলিক স্বাধীনতাকে বাতিল করতে পারে না।’ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনে সামুদ্রিক পরিবহনের সাধারণ কার্যক্রমেরও নিন্দা করার জন্য ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসের সমালোচনা করেছে মন্ত্রণালয়টি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইইউর কর্মকাণ্ড ‘অপারেশন ইরিনিকে’ রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ারে পরিণত করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলে হস্তক্ষেপ করে ব্রাসেলস নিজেই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজের ওপর বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে।’





