ভেনেজুয়েলা অভিযানে জব্দ দুই তেল ট্যাংকার স্ক্র্যাপে বিক্রি করলো যুক্তরাষ্ট্র

তেলবাহী জাহাজ ‘মারিনেরা’
তেলবাহী জাহাজ ‘মারিনেরা’ | ছবি: রয়টার্স
0

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দুটি তেল ট্যাংকার স্ক্র্যাপ বা ভাঙার জন্য বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।গত সোমবার শিপিংসংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’-এর বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুবাইভিত্তিক জাহাজ পুনর্ব্যবহার প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল মার্কেটিং সিস্টেমস’ (জিএমএস) গত মাসে অপ্রকাশিত মূল্যে ট্যাংকার দুটি কিনে নিয়েছে। ‘এরা’ নামের ট্যাংকারটি এর আগে ‘মারিনেরা’ ও ‘বেলা ১’ নামে চলাচল করত। আর ‘লিলিও’ নামের অন্য ট্যাংকারটি এক সময় ‘গ্যালিলিও’ ও ‘ভেরোনিকা’ নামে পরিচিত ছিল। এই দুটি ট্যাংকারকেই এখন ভারতের ‘স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে’ ভাঙা হবে।

জিএমএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনিল শর্মা লয়েডস লিস্টকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার এগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করেছে এবং এর জন্য আদালতের অনুমোদনও রয়েছে। তবে বিষয়টি বেশ জটিল। বিশেষ করে এগুলোর প্রকৃত মালিক কে ছিলেন, সে বিষয়ে আমরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি।’ জিএমএস রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।

গত জানুয়ারিতে ইউএস কোস্টগার্ড ও সামরিক বাহিনীর বিশেষ কমান্ডো দল আইসল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সমুদ্রে রুশ পতাকাবাহী ‘এরা’ ট্যাংকারটি জব্দ করে। আটলান্টিক মহাসাগরজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ধাওয়ার পর এটি বন্দী করা হয়। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল রপ্তানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিবীয় নৌ-অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছিল ট্যাংকারটি। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল পরিবহনে এটি ব্যবহৃত হয়েছিল।

এ ছাড়া একই মাসে ক্যারিবীয় সাগর থেকে ‘লিলিও’ নামে পরিচিত অন্য রুশ ট্যাংকারটিকে জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই ট্যাংকারটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন ছিল। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র মোট ১০টি তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে। উল্লেখ্য, নজরদারি এড়াতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এসব জাহাজ প্রায়ই তাদের নাম বদল করে থাকে।

এএম