মাত্র কয়েকদিন আগে ইউক্রেনজুড়ে অভিযান চালিয়ে ২১ জনকে হত্যার পর শনিবার রাজধানী কিয়েভে আবারও তাণ্ডব চালিয়েছে রুশ সেনারা। ভোররাতে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রাণ গেছে শিশুসহ বেশ কয়েকজনের। এমন প্রেক্ষাপটে প্রথম বিদেশ সফরে সার্বিয়ায় গেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন সার্বিয়ান রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে।
এদিকে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক চ্যানেল কাজে না আসায় আবারও নিষেধাজ্ঞা নীতিতে আস্থা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে ওয়াশিংটন। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশ ভারত-চীনের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প।
শুক্রবার সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাশ হয় লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬ বিল। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা এই বিলের লক্ষ্য- মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। পাশাপাশি, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারেরও বিধান রাখা হয়েছে বিলে।
এতে করে এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিলটি আইনে পরিণত হলে রুশ জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প। আওতায় পড়তে পারে মস্কোর জ্বালানি বাণিজ্য অংশীজন চীন, ভারত, জাপান, ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। এরমধ্যে রুশ জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশের ক্রেতা চীন ও ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজর সবচেয়ে বেশি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রভাবশালী ধনকুবেরদের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও সম্পত্তি জব্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বিলে। এছাড়াও রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত গোপন ও পুরোনো সামুদ্রিক জাহাজ বহর বা শ্যাডো ফ্লিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
আর ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী বিলে ইরানের ওপর বর্ধিত নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা ২০২৫ সালে একবারই উত্থাপন করা হয়েছিল। এতে করে ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে বিলটি আইনে পরিণত হতে হাউজের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। নতুন শুল্কের ক্ষমতা আমদানিকারক ও ভোক্তাদের খরচ বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিলটি নিয়ে বিরোধিতার সুযোগ আছে। কারণ দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে রিপাবলিকানদের ব্যবধান সামান্য। ৩১ আগস্ট গ্রীষ্মের ছুটি শেষে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসদের অধিবেশনে বিলটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।





