তেঁতুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম কাজীপাড়ার গৃহবধু লিপা আক্তার। কোলের সন্তানসহ দুই সন্তানকে নিরাপদে প্রসব করেছেন বাড়ির পাশের কাজীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে। তার মতো প্রসুতি মায়েদের এখন ভরসার জায়গা এই কমিউনিটি ক্লিনিক, যার হাতে এই সফলতার গল্প রচিত- তিনি মেহেরুন নেহার লিলি।
২০১১ সালে কাজীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি হিসাবে যোগ দেন লিলি। এরপর ২০১৪ সালে নিরাপদ সন্তান প্রসবের প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন স্বাভাবিক সন্তান প্রসব কার্যক্রম। শুরুতে কিছুটা ভয় কাজ করলেও সময়ের সঙ্গে হয়ে ওঠেন দক্ষ ধাত্রী। এখন প্রত্যন্ত এলাকার শত শত মায়ের আস্থার প্রতীক।
সেবা নিতে আসা একজন বলেন, ‘আমরা তো গরিব মানুষ, আমরা তো দূরে যেতে পারি না। আমরা এখানেই নিয়ে আসি। আর নিয়ে আসলে কোনো ডাক্তার পাই না।’
স্বাভাবিক সস্তান প্রসবের এই সেবা চালু হওয়ায় দুর্গম এলাকার মানুষকে দূরের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে না। এতে কমেছে যাতায়াত ব্যয় আর সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতাও।
গত ১১ বছরে লিলি সীমান্ত এলাকার প্রায় দেড় হাজার প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি করেছেন তার কমিউনিটি ক্লিনিকে। প্রসুতি মায়েদের নিরাপদে সন্তান প্রসবের সেবাতেই লিলির আনন্দ।
মেহেরুন নেহার লিলি বলেন, ‘প্রথম দিকে একটু মানুষও অবিশ্বাস করতেছিল, এখানে পারে কি পারে না? যখন থেকে শুরু হলো, তখনই দেখি আমার কাছে অনেক হাই রিস্ক নিয়ে অনেকে আসা শুরু করেছে।’
স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের এই কার্যক্রম অন্যদের জন্যে উদাহরণ বলে মনে করে জেলা স্বাস্থ বিভাগ। জেলার ১১০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে অল্প কিছু ক্লিনিকে রয়েছে স্বাভাবিক সস্তান প্রসবের ব্যবস্থা।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারেরও টার্গেট যে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি এবং নরমাল ডেলিভারি। যাতে করে আমাদের যে সিজারিয়ান সেকশন, এখানে যাতে আমাদের পরিমাণটা কম থাকে। যাদের খুবই দরকার, ইন্ডিকেশন আছে, তাদের সিজারিয়ান সেকশন করতে হবে।’
নিরলস পরিশ্রম আর নিজের কর্মদক্ষতা দ্বারা লিলি প্রত্যন্ত এলাকার মায়েদের ভরসায় পরিণত হয়েছেন। লিলির মতো অন্য সিএইচসিপিরাও প্রত্যন্ত এলাকার মায়েদের পাশে দাঁড়াবে- এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।





