আর্থিক সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শুধু শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্টই নয়, ডিপফেক কনটেন্ট এবং পরিচালনাজনিত অন্যান্য ভুলের জন্যও ক্ষমা চেয়েছেন জাকারবার্গ। গত মঙ্গলবার মেটার নির্বাহীদের সঙ্গে ভারত সরকারের কর্মকর্তাদের বৈঠকে এই বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ভারত সরকার ইনস্টাগ্রাম থেকে শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট-সম্পর্কিত সব বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলতে মেটাকে নির্দেশ দিয়েছিল। কীভাবে ইনস্টাগ্রামে এসব বিজ্ঞাপন প্রকাশের সুযোগ পেল, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছিল দিল্লি। জবাবে মেটা সে সময় জানিয়েছিল, শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্টের বিষয়ে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে এবং তারা তাদের কনটেন্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে ক্রমাগত শক্তিশালী করছে।
গত মাসে ফেসবুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটার নির্বাহীদের ডেকে পাঠায়। কোম্পানিটি জানিয়েছিল, পরিচালনাগত ত্রুটির কারণে ভুলবশত পোস্টটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া ফেসবুকে মোদিকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে হায়দরাবাদ পুলিশ মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে।
ভারত চলতি বছর কনটেন্ট বিষয়ক আইনি বিধিমালা আরও কঠোর করেছে। ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্টের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে যে আইনি সুরক্ষা দেয়া হতো, তা কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে আদালত বা সরকার চিহ্নিত করে দেয়া কোনো বেআইনি কনটেন্ট আগের ৩৬ ঘণ্টার পরিবর্তে এখন মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হয়। অন্যথায় প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের আইনি সুরক্ষা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।





